নতুন সব ভয়ংকর মাদক সেবন ও ব্যবসায় জড়াচ্ছে উচ্চবিত্তের সন্তানরা

120
নতুন ধরনের মাদকের মধ্যে রয়েছে এলএসডি, ডিএমটি, ম্যাজিক মাশরুম, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, খাট, এস্কাফ। এছাড়া ইয়াবা, ড্যান্ডি, হেরোইনের মতো মাদকতো রয়েছেই।
নতুন ধরনের মাদকের মধ্যে রয়েছে এলএসডি, ডিএমটি, ম্যাজিক মাশরুম, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, খাট, এস্কাফ। এছাড়া ইয়াবা, ড্যান্ডি, হেরোইনের মতো মাদকতো রয়েছেই।

সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন ভয়ংকর নানা ধরনের মাদক। নতুন এসব মাদকে আসক্ত হওয়ার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ও জড়িয়ে পড়ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে রাজধানীতে নতুন এসব ভয়ঙ্কর মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে উচ্চবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরাও। তাদের অনেকে মাদক ব্যবসায়ও নাম লেখাচ্ছে। আইস ও ইয়াবার ব্যবসাই বেশি করছেন তারা। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান গ্রেপ্তার হওয়ার পর চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।

নতুন ধরনের মাদকের মধ্যে রয়েছে এলএসডি, ডিএমটি, ম্যাজিক মাশরুম, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, খাট, এস্কাফ। এছাড়া ইয়াবা, ড্যান্ডি, হেরোইনের মতো মাদকতো রয়েছেই।

মিয়ানমার থেকে এতদিন ইয়াবার চালানই বেশি আসত। কিন্তু ইদানীং সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ভয়ঙ্কর মাদক আইস। আচার, চায়ের প্যাকেটে ভরে এবং অভিনব আরও কায়দায় এক বছরের মধ্যে অন্তত ১০০ কোটি টাকার আইস দেশে প্রবেশে করেছে।

গবেষকদের মতে, যেসব দেশে যুবশক্তি বেশি সেসব দেশে মাদক ব্যবসায়ীরা তীক্ষ্ণ নজর রাখে। সেসব স্থানে মাদকের বিস্তার ঘটানোর জন্য মাদক ব্যবসায়ীরা নানা কৌশল অবলম্বন করে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের সব দেশের সামগ্রিক অবস্থা জানা সহজ হওয়ায় টার্গেট করা স্থানে মাদকের বিস্তারে যোগাযোগ চালায় মাদক ব্যবসায়ীরা। এরপর তারা পাচারের নানা কৌশল ঠিক করে।

গত এক বছরে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৮৬ হাজারেরও বেশি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে লক্ষাধিক মাদক ব্যবসায়ী।

এই সময়ের মধ্যে জব্দ করা হয়ছে প্রায় পাঁচ কোটি পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, দেড় কেজি কোকেন, ৪১৫ কেজি হেরোইন, ৬৯ কেজি আফিম, প্রায় ৭৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৫ লক্ষাধিক বোতল ফেন্সিডিল, ২ লক্ষাধিক বোতল বিদেশী মদ ও প্রায় এক লক্ষ ইনজেকটিং ড্রাগ।

এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভয়ঙ্কর ধরনের নতুন বিভিন্ন মাদক যেমন ম্যাজিক মাশরুম, আইস, খাট, এলএসডি, ডিএমটি, ড্যান্ডি, এস্কাফ এর ড় বড় চালান ধরা পড়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রায় ৫০ কেজি আইস ও ৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় শতকোটি টাকা। আর গত বছর উদ্ধার হয় প্রায় ৩৮ কেজি আইস। চলতি বছর র‌্যাব ও বিজিবির হাতে জব্দ আইস ও ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিজিবি এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ কেজি আইস তথা ক্রিস্টাল মেথ উদ্ধার করেছে। র‌্যাব এখন পর্যন্ত ১৯ কেজি আইস উদ্ধার করেছে। কোস্টগার্ড ১ কেজি আইস উদ্ধার করেছে। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ৪ কেজি আইস উদ্ধার করেছে।

কাঁচামালের সঙ্গে, পিকআপ ভ্যানের পাটাতনে লুকিয়ে কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের ইঞ্জিনের ভেতর উদ্ধার হয়েছে মাদকদ্রব্য। জরুরি পণ্য পরিবহনের আড়ালে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে এসব মাদক। হাত বাড়ালেই হাতের নাগালে পছন্দের মাদক পেয়ে যাচ্ছে মাদকসেবীরা। শুধু তাই নয়, হোম ডেলিভারির মাধ্যমেও মাদক বিক্রি হচ্ছে।

২০২১ সালের আগস্টে রাজধানীর অভিজাত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে উচ্চবিত্ত ঘরের ১০ মেয়েকে ৫০০ গ্রাম আইস ও পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

দেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় মাদকের চাহিদা এত বেশি যে, সীমান্ত ফাঁকি দিয়ে কোনোভাবে মাদক ঢাকায় ঢোকাতে পারলেই চড়া দামে বিক্রি হয়ে যায় সেগুলো।

বর্তমানে সারাদেশে পৌনে এক কোটি মাদকসেবী রয়েছেন। তাদের ৮০ শতাংশই তরুণ-তরুণী। তারা একাধিক মাদকে আসক্ত। দেশের মোট মাদকসেবির সিংহভাগই তরুণ-তরুণী।

ব্রোকেন ফ্যামিলির ছেলে অনীক (ছদ্মনাম)। ইয়াবা আসক্তি থেকে জড়িয়েছেন মাদক ব্যবসায়ও। এক সময় ফুটপাথে ভাঙারি কুড়িয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। ফুটপাথে ঘুমিয়ে পড়ত। পরে এলাকার এক বড়ভাই তাকে কামরাঙ্গীরচরে ইয়াবা কেনাবেচা করার কাজ দেয়। তার কাজ পুলিশ দেখলে যেন ইশারায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া। তার মতো অনেক কম বয়সী ছেলেরাও এভাবে পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে।

উচ্চ বিত্ত পরিবারের সন্তান সাদমান (ছদ্ম নাম) মালয়েশিয়া থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে বাবার ব্যবসার হাল ধরেন। কিন্তু সঙ্গ দোষে ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েন সাদমান। একদিন শখের বসে আইস খান। এরপর বন্ধু বান্ধবদের কাছে আইস বিক্রি শুরু করেন। তারই বন্ধু লোহিত লন্ডনে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে বাবার গার্মেন্টস দেখাশোনা শুরু করেন। নষ্ট বন্ধু-বান্ধবের খপ্পড়ে পড়ে তিনিও আইস খাওয়া শুরু করেন।