মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

105
মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশজুড়ে কোথায় কতক্ষণ কীভাবে লোডশেডিং দেয়া যাবে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় রুটিন প্রস্তুত করে তা জনগণকে জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সাতকানিয়া উপজেলার দোহাজারী ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উৎপাদন কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে ইচ্ছামাফিক লোডশেডিং দিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

স্থানীয় দোহাজারী-কালিয়াইশ বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতি বারবার দোহাজারী পিডিবি কর্তৃপক্ষকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লোডশেডিং দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তারা তা মানতে রাজি নন। সারাদিন ৩-৪ বার লোডশেডিং তো আছেই; তার ওপর বিরক্তিকর ভেলকিবাজি। সবচেয়ে বিরক্তিকর গভীর রাতে এলাকাবাসী যখন ঘুমাতে যান ঠিক সে সময়ে শুরু হয় আসল লোডশেডিং।

অধিকাংশ সময়ে দেখা যায় রাত ১টা থেকে লোডশেডিং শুরু হয়ে একটানা চলে দীর্ঘ আড়াইটা পর্যন্ত। একদিকে তীব্র গরমে নাভিশ্বাস অন্যদিকে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ। সারা রাত ঘুমাতে না পেরে এলাকাবাসী সড়কের উপর আর ব্রিজ কালভার্টেও ওপর বসে গল্প গুজব করেই রাত পোহাচ্ছে।

রাত্রিকালীন সমান তালে লোডশেডিং দেয়ার কারণে সাধারণ মানুষ সকালে নির্ঘুম রজনীর হতাশা প্রকাশ করে। তাছাড়া আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

দোহাজারী বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে রাত-দিন সমান তালের লোডশেডিং পরিবর্তন চায় এলাকাবাসী। সারাদিন ক্রমাগত বিদ্যুতের ভেলকিবাজির কারণে পরীক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লি ও ব্যবসায়ীদেরকে যথেষ্ট দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে গণ মাধ্যমে যারা সংবাদ প্রেরণের কাজ করেন তাদের অবস্থা হয় আরও শোচনীয়।

দোহাজারী -১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উৎপাদন কেন্দ্র অর্থাৎ জাতীয় গ্রিড থেকে কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হয় এবং সেখান থেকে লোডশেডিংও নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলে জানান দোহাজারী বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন।

দোহাজারী-কালিয়াইশ বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দোহাজারী গ্রিড ও বিদ্যুৎ অফিসে ঘাপটি মেরে বসে আছেন সরকারবিরোধী কিছু কর্মকর্তা। তারা ইচ্ছামাফিক লোডশেডিং দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা চেষ্টা চালাচ্ছে। যেমন নামাজের সময়, পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া করার সময় এবং সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে যখন মানুষ ঘুমাতে যায় তখন লোডশেডিং দিয়ে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের বেশ কয়েকজন অভিযোগ তোলেন, রাতের আঁধারে নাকি স্টোর রুম থেকে বিদ্যুতের বিভিন্ন মালামাল পাচার হয়ে থাকে। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

দোহাজারী বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী আরাফাত হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইদানীং অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার হাতে কোনো দায়িত্ব নেই। সমস্ত দায়িত্ব গ্রিডের কর্মকর্তাদের কাছে। তারা তাদের ইচ্ছামাফিক লোডশেডিং দিয়ে থাকেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দোহাজারী পিডিবির কর্মচারীদের দেয়া অবৈধ সংযোগগুলো বের করে লাইন বিচ্ছিন্ন করলে অত্র এলাকার বিদ্যুৎ ঘাটতি অনেকটা হ্রাস পাবে।

আবার অনেকে বলছেন ভিন্ন কথা। কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৪নং ও ৫নং ওয়ার্ড, নলুয়া, মৈশামুড়া এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জার স্পট রয়েছে। যেখানে দিনে ও রাতে অর্ধ শতাধিক অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হয়। ওই চার্জ সেন্টারের মালিকের সঙ্গে দোহাজারী পিডিবির অসাধু কর্মচারীদের আলাদা সম্পর্ক বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয় এসব এলাকায় রয়েছে মিটারবিহীন বহু মুরগি খামার। এসব মুরগির খামারির সঙ্গে দোহাজারী পিডিবির কর্মচারীদের সঙ্গে রয়েছে দেয়া নেয়ার সম্পর্ক। এসব অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করতে পারলেই দোহাজারী পিডিবির আওতাধীন লোডশেডিং অনেকাংশে কমিয়ে আনা যাবে বলে অনেকেই মনে করেন।

দোহাজারী গ্রিডের প্রকৌশলীর সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সরকারি নম্বরে বারবার রিং দিলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।