মরণব্যাধি ক্যান্সার থেকে বাঁচতে চায় শিশু মহিন হোসেন

88
মরণব্যাধি ক্যান্সার থেকে বাঁচতে চায় শিশু মহিন হোসেন
মরণব্যাধি ক্যান্সার থেকে বাঁচতে চায় শিশু মহিন হোসেন

কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা থেকে : মহিন হোসেন। বয়স ১০ বছর। মহিন হোসেন চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন নুরাবাদ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মৃত মোশারেফের ছেলে। স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র সে। যে বয়সে শিশুরা যখন আনন্দময় শৈশবকে উপভোগ করে, ঠিক তখন বিছানায় শুয়ে মুত্যুর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মহিন হোসেন। তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সার।

মরণব্যাধি ক্যান্সার থেকে বাঁচতে চায় কাওমী মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিশু মহিন হোসেন। সে এখন জীবন মরণ সন্ধিক্ষণে। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না মা বিলকিছ বেগম। মহিনের বয়স যখন ৫ বছর তখন তার বাবা মোশারফ ব্রেইন টিইমারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেন। বাবা মৃত্যুর পর মা বিলকিছের অন্যথায় বিয়ে হয়ে যায়। মহিনকে রেখে দেন দাদীর কাছে।

জানা যায়, মহিনের ঘাড়ে একটি টিউমার দেখা দেয়। ওই টিউমার ঢাকাতে নিয়ে অপারেশন করানো হয়। অপারেশনের পর থেকে মহিনের গাঁড়ের দুই পাশ ও গাল ফুলে যায়। পূণরায় ঢাকাতে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান দাদী। ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখেন এটা ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। টাকার অভাবে দাদী চিকিৎসা করাতে না পেরে মহিনকে মা বিলকিছ বেগমের কাছে রেখে যায়। মা অন্য একজনের সংসার করায় ছেলেকে ঠিকমতো দেখভাল করতে পারছে না। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। মা বিলকিছ বেগমের কাছে ছেলে মহিনের চিকিৎসা করানোর মতো অর্থ যোগাড়ের কোন রাস্তা নেই।

শিশু মহিনের মা বিলকিছ বেগম বলেন, ১২ বছর পূর্বে মোশারেফের সাথে তার বিবাহ হয়। তাদের সংসারে দুই জন কন্যা সন্তান ও একজন ছেলে সন্তান জন্ম গ্রহন করেন। স্বামী মোশারেফ মৃত্যুর পর অন্যথায় বিয়ে হয়ে যায় তার। মহিনকে তার দাদী রেখে দেন। বিলকিছ দুই কন্যা সন্তান তার সাথে করে নিয়ে যান। মহিনের টিউমার অপারেশন থেকে আজ তা ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। মহিনের দাদী তার চিকিৎসার খরচ চালাতে না পেরে আমার কাছে মহিনকে রেখে যায়।

মহিনের মা আরও বলেন, টাকার অভাবে মহিনের কোন ধরনের চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি অন্য একজনের সংসার করছি। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা যোগাড় করে ঔষধ কিনেছি। বর্তমানে টাকা না থাকায় এক সপ্তাহ হয়েছে ঔষধ কিনতে পারছিনা। দিন-রাত প্রচন্ড ব্যথা সহ্য করতে পারছে না মহিন। ব্যাথায় ছটফট করছে। অনেক ব্যয়বহুল খরচ হওয়ার কারণে এখন চিকিৎসা করাতে পারছিনা তাই দয়া করে আপনারা এই শিশু সন্তানের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল নোমান বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে শিশু মহিন হোসেনের চিকিৎসার জন্য আমাদের সাধ্যমত সহযোগিতা করবো।