ভোলায় তেতুঁলিয়া নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে তিনটি ইউনিয়ন

46
ভোলায় তেতুঁলিয়া নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে তিনটি ইউনিয়ন
ভোলায় তেতুঁলিয়া নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে তিনটি ইউনিয়ন

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিনে তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙ্গনে মূল বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে রিং বেড়িবাঁধেরও প্রায় ৫ শত ফুট ভেঙ্গে গেছে ও  কয়েকটি স্থান বেড়ি ধসে
পড়েছে। এতে হুমকি মুখে পড়েছে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের বসত বাড়িসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বসত বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় এলাকাবাসী বাঁধ সংস্কারসহ দ্রুত ব্লক বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, এক সময় মূল বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার হওয়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্মিত প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক কাম বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বিলীন হওয়ার প্রায় আড়াই বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্মিত রিং বেড়িবাঁধটি কুতুবা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড এলাকা দিয়ে ৫ শত ফুটের বেশী এরাকা নিয়ে নদীগর্ভে চলে গেছে। ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মাকসুদুর রহমানের মাছের ঘেরের পাড় না থাকলে পানি পূর্ণিমার জোয়ে ইতিমধ্যেই লোকালয়ে ঢুকে যেত। মাছের ঘেরের পাড় ধসে এখন সামান্যই অবশিষ্ট আছে। এছাড়া রিং বেড়িবাঁধের গঙ্গাপুর এলাকার ৬-৭ টি স্থানে ধসে পড়েছে।

ফলে অতি জোয়ার বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ছে। কুতুবা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মিজানুর রহমান, মিরাজ হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, ওবায়দুল হক বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্লক বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা না নিলে আমরা ভিটেমাটি হারাবো। একই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে মাওলানা নেছারউদ্দিন, হাফেজ জাফর শরীফ, আশরাফ ফারুক বলেন, নদীর ¯্রােতে রিং বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ফেলেছে। আমরা অসহায়ের মতো ভাঙ্গন দেখছি আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। ২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ৭৬ বছর বয়সি ছোটমানিকা ফাজিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ মো. সাইফুল্যাহ বলেন, মাদ্রাসায় ৬৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী। নদী থেকে মাদ্রাসার দূরত্ব মাত্র ২০ থেকে ২৫ ফুট। দ্রুত ব্লক বাঁধ নির্মাণ না করলে মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। এলাকার শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া নিয়ে গভীর সংকটে পড়বে।

কুতুবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জোবায়েদ বলেন, গত ২ বছরে ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ব্লক বাঁধ নির্মাণ না করলে এ সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। নদীসংলগ্ন গঙ্গাপুর ও কুতুবা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী দৌলতখান উপজেলা দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড। ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা জেবল হক ব্যাপারী, ইব্রাহিম মিয়া, মনির হোসেন, রুহুল আমিন, আ. গনি বলেন, ধসে যাওয়া বাঁধ থেকে তাদের ঘরবাড়ির দূরত্ব মাত্র ১০ থেকে ১৫ গজ। গত ২ বছর আগেও তা আধা কিলোমিটার দূরে ছিল। এখনো ব্লক বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ না নিলে তাদের ভিটামাটি তেতুঁলিয়া নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে।

গঙ্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রিয়াজ বলেন, গত ২ বছরে তার ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের প্রায় ১৫০ পরিবার, ২ নং ওয়ার্ডের প্রায় ৩শ’ পরিবার, ৩ নং ওয়ার্ডের প্রায় ৩শ’ পরিবার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এছাড়া ৯ নং ওয়ার্ডের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের বসতবাড়ি হারাতে হয়েছে। তিনি খাঁয়ের হাট লঞ্চ ঘাট থেকে নয়নের খাল পর্যন্ত ব্লকবাঁধ স্থাপনের মাধ্যমে তিন ইউনিয়নের জনপদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া ও ধসে যাওয়া বাঁধ জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গঙ্গাপুর লঞ্চঘাটের পর থেকে দক্ষিণে সাড়ে ৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ ব্লক বাঁধের জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। জরিপ শেষে ডিজাইন সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।