ভূরুঙ্গামারীতে মুদি দোকানদার হত্যার দায়ে দু’জন গ্রেপ্তার

132
ভূরুঙ্গামারীতে মুদি দোকানদার হত্যার দায়ে দু’জন গ্রেপ্তার
ভূরুঙ্গামারীতে মুদি দোকানদার হত্যার দায়ে দু’জন গ্রেপ্তার

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর বলদিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গালীরকুটি গ্রামে শনিবার মধ্যরাতে মুদি দোকানদার আলতাফ হোসেন ফিরোজ (১৮) কে হত্যার দায়ে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্্েরপ্তারকৃতদের একজন মিলন মিয়া ওরফে দানব। অপরজন রুবেল হাসান ওরফে রানা। মিলন মিয়া ওরফে দানব বলদিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গালীরকুটি গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে। রুবেল হাসান ওরফে রানা একই গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে। আটককৃতরা বিজ্ঞ আদালতের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার (২৬ জুন) ভোরে কচাকাটা থানা পুলিশ তাদের আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ফিরোজকে হত্যার দায় স্বীকার করে। পরে সোমবার (২৭ জুন) সকালে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে কুড়িগ্রাম জেলা আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে বিজ্ঞ আদালতের নিকট তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

কচাকাটা থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফিরোজ হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তার মিলন মিয়া ওরফে দানব পুলিশকে জানায়, একই গ্রামের স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ের সাথে (তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ) তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ফিরোজ ওই মেয়েকে স্কুল যাওয়া আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করছিল। একাধিকবার নিষেধ করা স্বত্বেও ফিরোজ তা মানেনি। ফিরোজকে শাসানোর উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন রাতে কয়েকজনের একটি দল ইউক্যালিপটাস গাছের ডাল নিয়ে ফিরোজের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে জোনাব আলীর বাঁশ বাগানে অপেক্ষা করতে থাকে।

ফিরোজ দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল যোগে ওই স্থানে আসলে রুবেল হাসান রানা তার হাতে থাকা টর্চ লাইট জ্বালিয়ে গতি রোধ করে। এসময় মিলনসহ অন্যান্যরা গাছের ডাল দিয়ে ফিরোজকে মারতে গেলে ফিরোজ মাথা নিচু করে। একসাথে কয়েকজন গাছের ডাল দিয়ে ফিরোজকে আঘাত করলে তা গিয়ে সজোরে ফিরোজের মাথায় লাগে। এতে তার মাথা ফেটে গিয়ে মগজ বেড়িয়ে যায় এবং সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

কচাকাটা থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম জানান, ফিরোজ হত্যার প্রকৃত কারণ বারো ঘন্টার মধ্যে উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে আরো যারা জড়িত আছে তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।