ভূরুঙ্গামারীতে বৈরী আবহাওয়া আর শ্রমিক সংকটে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

112
ভূরুঙ্গামারীতে বৈরী আবহাওয়া আর শ্রমিক সংকটে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক
ভূরুঙ্গামারীতে বৈরী আবহাওয়া আর শ্রমিক সংকটে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বৈরী আবহাওয়া আর শ্রমিক সংকটে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ফলন ভালো হলেও পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারার দুঃশ্চিতায় পড়েছেন তারা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৬ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সমান। অতিবৃষ্টিতে প্রায় ১২ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ জমির ধান পাকতে শুরু করেছে। প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় তারা পাকা ধান কাটতে পারছেন না। বৃষ্টির ফাঁকে ফাঁকে এক-দুই বিঘা করে জমির ধান কাটা সম্ভব হলেও ভেজা ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কোনো কোনো কৃষকের ধান পঁচে যাচ্ছে। কারো কারো ধান থেকে চারা গজাতে শুরু করেছে।

অপরদিকে শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকট তাদের দুঃশ্চিন্তার মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। চড়া দামের শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে। উপযুক্ত মূল্যে ধান বেচতে না পারলে লোকসান গুনতে হবে বোরো চাষি কৃষকরা।

তিলাই ইউনিয়নের কৃষক দুলাল বলেন, তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। কিছু জমির ধান কাটা হয়েছে। যেদিন ধান কেটেছি সেদিন থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। ভেজা ধান শুকাতে না পারায় সেগুলোতে চারা গজাতে শুরু করেছে। বাকি জমির ধান পানিতে তলিয়ে আছে। কাটা সম্ভব হবে কিনা জানিনা।

একই গ্রামের কৃষাণী হাজেরা বেগম বলেন, এক বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। ওই জমিতে আগে ২০ মণ করে ধান হতো। বৃষ্টির পানিতে ধান তলিয়ে যাওয়ায় এবার ১০ মণ ধান হয় কিনা সন্দেহ আছে।

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস ছাত্তার বলেন, দিন হাজিরায় ধান কাটার শ্রমিক পাওয়াই যায় না। যদিও পাওয়া যায় তবে তাকে চড়া পারিশ্রমিক দিতে হয়। একজন শ্রমিককে দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি দিতে হয়।

ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের সাফিউল বলেন, প্রতি বিঘা জমির ধান কাটার জন্য ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা চুক্তি নিচ্ছেন শ্রমিকরা। নিরূপায় হয়ে কৃষক ওই পরিমান টাকা দিয়ে ধান কেটে নিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বৈশাখ মাস জুড়ে বৃষ্টিপাত চলমান থাকায় ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে কৃষকরা কিছুটা বিপাকে পড়েছেন। কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।