ভূগর্ভস্থ পানির বহুমাত্রিক ব্যবহারের ফলে সম্পদটি দ্রুত নিঃশেষ হচ্ছে : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

108

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, ‘অদৃশ্য সম্পদ ভূগর্ভস্থ পানির দৃশ্যমান প্রভাব’ সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বাড়াতেই এবারের বিশ্ব পানি দিবসে এই প্রতিপাদ্য । আমাদের দেশে ভূগর্ভস্থ পানির মূল ব্যবহার খাবার পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, সেচ কাজ এবং  শিল্পক্ষেত্রে । ভূগর্ভস্থ পানির বহুমাত্রিক ব্যবহারের ফলে এর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে, সম্পদটি দ্রুত নিঃশেষ হচ্ছে। ফলে জনসাধারণের সুপেয় পানি প্রাপ্যতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে ।

গতকাল রাজধানীর পানি ভবনে “বিশ্ব পানি দিবস ২০২২” উদযাপন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ও সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদ ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এবং ‘জাতীয় পানি নীতি, ১৯৯৯’ ‘বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩’, ‘বাংলাদেশ পানি বিধিমালা, ২০১৮’ এবং শতবর্ষ মেয়াদি ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’-এর মাধ্যমে সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সারা বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।  ভূগর্ভস্থ পানির নিরাপদ অঞ্চল সীমা নির্ধারণের লক্ষ্যে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলায় প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় মৌজা পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থান নিরূপণপূর্বক ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ব্যবস্থাকরণ। পর্যায়ক্রমে সকল জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির নিরাপদ অঞ্চল সীমা নির্ধারণের লক্ষ্যে মৌজা পর্যন্ত ম্যাপিংয়ের ব্যবস্থা করার জন্য প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর জন্য ভূউপরিস্থ পানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য জনসাধারণকে উৎসাহিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশে সেচ ব্যবস্থার ৮০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর ভূগর্ভ থেকে ৩০ দশমিক ২১ ঘন কিঃমিঃ পানি উত্তোলন করা হয়, যার ৮৬ শতাংশই ব্যবহৃত হয় কৃষির সেচ কাজে। এই মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি সেচ কাজে ব্যবহারের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহৃত গভীর ও অগভীর নলকূপগুলো পানি সংকটের মুখে পড়ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪ জেলার ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ১ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে ভূউপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। ডেল্টা প্ল্যান এর আওতায় দেশের ৬৪টি জেলায় প্রায় ৪৪৩৯ কিঃমিঃ নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন করা হচ্ছে। ফলে ১০০টি ছোট নদী, ৩৯৬টি খাল ও ১৫টি জলাশয় পুনরুজ্জীবিত হবে। জলাশয়, খাল ও নদীর মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপিত হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের উপকূলবর্তী ১৩ টি জেলায় ১৩৯টি পোল্ডারের মধ্যে ৬১টি পোল্ডারে বর্তমানে পুনর্বাসন কাজ চালু আছে। ২০২০-২১ অর্থ-বছরে সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলায় ১০৯০টি স্কিমে ৮৫৮ কিঃমিঃ ডুবন্ত বাঁধ পিআইসি’র দ্বারা মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করার ফলে বেশ কয়েকবার বিপর্যয় ব্যতিরেকে হাওর এলাকায় বোরো ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। হাওর এলাকাকে আগাম বন্যামুক্ত রেখে বোরো ফসল রক্ষা করা হয়।