ভিয়েতনামে বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন

107

জাতীয় শোক দিবস ২০২২ এবং স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৪৭-তম শাহাদাত বার্ষিকী বাংলাদেশ দূতাবাস, হ্যানয়, ভিয়েতনাম-এ যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশে স্মরণ করা হয়েছে।

দিবসটি স্মরণ ও পালন উপলক্ষে জাতীয় পতাকার আনুষ্ঠানিক উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণ, দোয়া ও প্রার্থনা, এক মিনিট নিরবতা পালন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও মোমবাতি প্রজ্জলন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ, আলোচনা ও স্মরণ সভা এবং প্রামান্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় শোকদিবসের শ্রদ্ধা নিবেদন হিসাবে ভিয়েতনামস্থ শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি হুইল চেয়ার, একটি ওয়াকার, একটি স্টিক এবং দশ মিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং এর একটি চেক ভিয়েতনামের এসোসিয়েশন ইন সাপোর্ট অফ ভিয়েতনামিজ হ্যান্ডিক্যাপড এন্ড অরফানস এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

ভিয়েতনাম-এ নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ দূতাবাস প্রাঙ্গনে প্রত্যুষে জাতীয় সঙ্গীত সহকারে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন এবং অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচীর সূচনা করেন। এর পরেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যগণসহ অন্যান্য শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা করা হয়।

জাতীয় শোক দিবসের স্মরণসভার আলোচনা পর্বে উপস্থিত ছিলেন ভিয়েতনাম ইউনিয়ন অফ ফ্রেন্ডশিপ অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্র উপ-মন্ত্রী ম্যাডাম নুয়েন ফুওং ন্যা, এসোসিয়েশন ইন সাপোর্ট অফ ভিয়েতনামিজ হ্যান্ডিক্যাপড এন্ড অরফানস-এর ভাইস চেয়ারম্যন ম্যাডাম ট্রান থি, ভিয়েতনামের কূটনৈতিক কোর-এর প্রতিনিধিবৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং প্রবাসী বাংলাদেশীগণ।

আলোচনা সভার প্রাক্কালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রদূত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন। এ দিবসটি উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

স্মরণ সভার আলোচনার শুরুতে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নের্তৃত্বের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বিনম্র শ্রদ্ধাচিত্তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগষ্টে শাহাদাৎ বরণকারী তাঁর পরিবারের সদস্যসহ সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে জাতির জনকের জীবনাদর্শ এবং আমাদের স্বাধীনতা অর্জন সহ সকল সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবিসংবাদিত নেতৃত্ব ও অপরিসীম আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও মহান স্বাধীনতার স্থপতি। রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি তিনি জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ও প্রচেষ্টা ছিল বঙ্গবন্ধুর এবং তাঁর দেখানো পথে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে স্বনির্ভর দেশ গড়ার লক্ষ্যে। এ লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসে তিনি শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করার মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ “সোনার বাংলা” গড়তে দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

স্মরণ সভার শেষ পর্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। জাতীয় শোক দিবসকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে এবং বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক নিদর্শন হিসেবে ভিয়েতনামের এসোসিয়েশন ইন সাপোর্ট অফ ভিয়েতনামিজ হ্যান্ডিক্যাপড এন্ড অরফানস এর নিকট রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ একটি হুইল চেয়ার, একটি ওয়াকার, একটি স্টিক এবং দশ মিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং এর একটি চেক হস্তান্তর করেন। অবশেষে হালকা আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।