ভিজিডি কার্ড নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়

93
ভিজিডি কার্ড নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়
ভিজিডি কার্ড নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়

পলাশ মন্ডল, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী নারীরা মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলার চরের কাজলা ইউনিয়ন পরিষদে স্বশরীরে হাজির হয়ে গরীব ও অসহায় নারীদের একযোগে অভিযোগ দায়েরের পর ঘটনাটি নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নে গত বছল ২২২ জন গরীব ও দুঃস্থ নারীকে ভিজিডি কার্ড দেয়া হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই কর্মসূচীর আওতায় সমাজের দরিদ্র ও অসহায়রা পাচ্ছেন প্রতি মাসে ৩০ কেজি ওজনের এক বস্তা চাল। কিন্তু যেসব অসহায় মানুষের নামে কার্ড হয়েছে তাদের প্রত্যেকের হাতে কার্ডগুলো পৌঁছানো হয়নি। তাদের নামের কার্ড দিয়ে চাল তুলে নিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

কাজলা ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্যরা সম্প্রতি ঘটনাটি জানতে পারেন এবং মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন ৫ জন অসহায় নারী এবং টিপসই দিয়েছেন একজন। ভুক্তভোগী গোলাপি বেগম, আরজিনা বেগম ও মোরশেদা বেগম বলেন, আমাদের নামে ভিজিডি কার্ড হয়েছে ঠিকই, চালও উত্তোলন হয়েছে মাস মাস। কিন্তু আমরা তা জানতে পারিনি। জানা মতে, আমাদের ইউনিয়নে ৩০-৩৫ জন নারীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত করলেই তা বেরিয়ে পড়বে।

তারা আরও বলেন, ১৮ মাস আগে আমাদের নামে কার্ড হয়েছে। অথচ কয়েকদিন দিন আগে আমরা তা জানতে পারি। ঘটনাটি জানতে পেরে প্রথমে আমরা হতবাক হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল কথাটা সত্য না। খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেরে আমরা বিষয়টি ইউএনও সাহেবকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, মহিলাদের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা পারভীন নাহার বলেন, ভিজিডি কার্ড ছাড়াও একাধিক ব্যক্তির নামে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কার্ড থাকতে পারে বলে আমার মনে হয়। তবে অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই কাজলা ইউনিয়নের সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে দ্রুত খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রুবেল বলেন, তালিকা আমরা করি না। যারা তালিকা করেন তাদের দেওয়া তালিকা মোতাবেক আমরা মালামাল কার্ডধারীদের হাতে দেই মাত্র।

ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়নের সহকারী অফিসার ছরোয়ার আলম বলেন, তালিকা অনুযায়ী চাল দেওয়া হয়ে থাকে কার্ডধারীদের। পুুরুষ বা শিশু কিশোর কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ভৌগলিক কারণে (চর এলাকা) যার হাতে কার্ড থাকে তাকেই চাল দেওয়া হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে কাজলা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছি প্রায় চার মাস আগে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কোনো কার্ডধারীর নাম বাদ পড়লে আমার দোষ হবে ভেবে আমি তালিকায় হাত দেইনি।