ভালুকায় মেয়েকে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে রাখেন বাবা

126
ভালুকায় মেয়েকে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে রাখেন বাবা
ভালুকায় মেয়েকে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে রাখেন বাবা

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় সৎ মেয়ে মিনু আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখেন বাবা শফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশ কুড়িগ্রামের ওলিপুর থেকে সৎ বাবা শফিকুলকে ও উপজেলার জারিমদিয়া থেকে নান্দাইল উপজেলার দরিল্লা গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে। মিনু আক্তারকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তারা।

ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, গত ২৪ জুন রাতে কুড়িগ্রাম থেকে শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরেরদিন শনিবার (২৫ জুন) বিকেলে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্য আসামি রিপন মিয়াকে একই দিন (শনিবার) বিকেলে ভালুকার জমিরদিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিপন মিয়াকে রোববার (২৬ জুন) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ওসি কামাল হোসেন বলেন, শফিকুল ইসলামের বাড়ি কুড়িগ্রামে। তিনি ভালুকায় বসবাস করতেন। বেশ কয়েক বছর আগে সৎ মেয়ে মিনুকে মেনে নিয়ে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন শফিকুল। মাহমুদা আক্তার পোশাক কারখানায় চাকরি ও রফিকুল ভাঙ্গারির ব্যবসা করতেন। মাহমুদা পোশাক কারখানায় চাকরি করে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জমা করেন। ওই টাকা দিয়ে মেয়ে মিনুর নামে ডিপোজিট করার পরিকল্পনা করে মা মাহমুদা। বিষয়টি শফিকুল জানতে পেরে মাহমুদা আকারের কাছে টাকা চান। তবে তিনি টাকা দিকে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল তার বন্ধু রিপনকে নিয়ে সৎ মেয়ে মিনুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৮ জুন মা মাহমুদা আক্তার বাড়িতে না থাকায় রাতে ঘুমন্ত মিনুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাশের একটি জঙ্গলে রেখে আসেন। পরদিন রাতে ওই মরদেহ একই এলাকার একটি কারখানায় বাউন্ডারির ভেতরে নিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখেন। এদিকে মিনুকে চাপা দেওয়া মাটি বৃষ্টির পানিতে সরে গিয়ে তার পা বের হয়ে আসে। এভাবে ১৭ দিন পার হলে স্থানীয়রা বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান। এই ঘটনায় ওই দিন রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে ভালুকা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলার প্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শক্তিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিপন মিয়াকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।