ভারতে গ্রেপ্তার পি কে হালদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর (ভিডিও)

118

ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের পর বিদেশে আত্মগোপনে থাকা বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে (প্রশান্ত কুমার) হালদারকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে। গ্রেপ্তারের পর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পিকে হালদার, তার স্ত্রী, ভাইসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয় শনিবার, ১৪ মে। এদিন সকালে পশ্চিমবঙ্গে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পরদিন রোববার বারাসাত আদালতে তোলা হয় পি কে হালদারকে। এসময় তাকে ১৭ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন আদালত।

শুক্র ও শনিবার পরপর দুদিন অভিযান চালিয়ে পি কে হালদারকে ধরা হয়। কলকাতা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোকনগরে সুকুমার মৃধার বিলাসবহুল বাড়ির সন্ধান পায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা। এই সুকুমার মৃধাই পি কে হালদারের বিপুল পরিমাণ অর্থের দেখভাল করতেন। স্থানীয়রা সুকুমার মৃধাকে মাছ ব্যবসায়ী বলেই জানতেন।

সুকুমার মৃধার প্রতিবেশী ছিলেন পি কে হালদার। মূলত এই দুজন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করেন। সেখানে নিজেকে শিবশংকর হালদার নামে পরিচয় দিতেন পি কে হালদার। তার ভাই প্রীতিশ হালদারও থাকতেন সুকুমার মৃধার বাড়িতে। স্থানীয়দের কাছে প্রীতিশ নিজেকে প্রাণেশ হালদার নামে পরিচয় দিতেন।

অশোকনগরে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন পিকে হালদার ও সুকুমার মৃধা। শুধু অশোকনগর নয়, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার অভিজাত এলাকায় এমনকি কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন এলাকায়ও তাদের একাধিক বাড়ি ও অফিসের খোঁজ মিলেছে। সেসব জায়গায়ও তল্লাশি চালানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বছর দুয়েক আগে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে ছিলেন পিকে হালদার। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক ছাড়াও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলা হয়। ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করে দুর্ধর্ষ এই অর্থ পাচারকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য।

বছরের পর বছর বিদেশে পালিয়ে থেকে পুলিশের নজরকে ফাঁকি দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে। পিকে হালদার ভারতে আত্মগোপন করে ছিলেন। ভারতীয় একটি কূটনৈতিক সূত্রের পক্ষ থেকে তার গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে এখন পর্যন্ত তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবহিত করেনি ভারতের সরকার।