বোয়ালমারীতে ঐতিহ্যবাহী কাটাগড়ের মেলা শুরু

183

আব্দুল্লাহ আল মামুন রনী : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কাটাগড়ের মেলা। আধ্যাত্মিক সাধক দেওয়ান শাগের শাহের (রহ) বার্ষিক উরশ উপলক্ষ্যে উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের কাটাগড়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাটাগড়ের মেলা।

প্রতি বছর ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী মেলাটি দেশের ২য় বৃহত্তম গ্রামীণ মেলা বলে লোকমুখে প্রচারিত থাকলেও মেলায় আগত বহিরাগত ব্যবসায়ীরা জানান দক্ষিন-পশ্চিমাংশে এটাই সবচেয়ে বড় গ্রামীণ মেলা। মূল মেলাটি বাংলা চৈত্র মাসের ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত হলেও এর রেশ থাকে সপ্তাহব্যাপী। ১২ চৈত্র দেওয়ান শাগের শাহ (রহঃ) এর উরশ উপলক্ষ্যে ওইদিন লোকসমাগম বেশি হয়ে থাকে।

প্রায় ১০০ একর জায়গা জুড়ে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা। মেলা উপলক্ষ্যে আধ্যাত্মিক এই সাধকের হাজার হাজার ভক্ত মূলত ফকির-সন্ন্যাসীদের আগমন ঘটে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী ৪টি জেলা থেকে কয়েক লাখ লোকের সমাগম হয়। কবে থেকে এ মেলা শুরু  হয়েছে সে ইতিহাস জানা না গেলেও ঐতিহাসিকদের মতে ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনের আধ্যাত্মিক নেতা দেওয়ান শাগের শাহ (রহঃ) ১৮ শতকের গোড়ার দিকে কাটাগড়ে আস্তানা গাড়েন।

১৮ শতকের প্রথমদিকে ইহধাম ত্যাগ করেন এই আধ্যাত্মিক সাধক, আর তাঁর ইহধাম ত্যাগের দিন ভক্তকূল জড়ো হতে থাকে ও তাঁর স্মরণে উরশ শরীফের আয়োজন করে। কালক্রমে উরশ ঘিরে জমে উঠে এ মেলা। সে হিসাবে প্রায় দুই শত বছরের পুরনো এ মেলা।মেলা উপলক্ষ্যে মাজারের পাশে প্রায় ১০০ একর এলাকায় কয়েক হাজার দোকান বসে। বিনোদনের জন্য রয়েছে পুতুল নাচ, সার্কাস, ভ্যারাইটি শো, যাত্রাপালা, যাদু, নাগরদোলা, মোটরবাইকশো। এছাড়া ফার্নিচার, মিষ্টির দোকান, খেলনার দোকানতো রয়েছেই। পাওয়া যায় সাঁজ বাতাসা, তালের পাখা, মাটি, লোহা ও বাঁশের তৈরি নানা পদের গৃহস্থালি সামগ্রী, থাকে চুড়ি-ফিতা, শরবত, খেলনা, ইলেক্ট্রনি· সামগ্রী থেকে শুরু করে লাখ টাকা দামের খাট।

এ সময় কাটাগড়, কলিমাঝি, সূর্যোগ, সহস্রাইল, ভুলবাড়িয়া, শেখর, ভাটপাড়া, মাইটকুমরা, গঙ্গানন্দপুর, ছত্রকান্দা, বন্ডপাশা, বয়রা, বামনগাতি, পঁচা মাগুরা, বনমালীপুর, ধানজাইল, দেউলিসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। বিশেষ করে আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দেওয়ার রীতি চালু হয়েছে আদিকাল থেকেই, অন্য সময় না এলেও এই এলাকার বিবাহিত মেয়েদের মেলা উপলক্ষ্যে বাপের বাড়ি বেড়ানোর রেওয়াজ রয়েছে প্রতিটি পরিবারে। আর এ এলাকার চাকরিজীবী ও পেশাজীবীরা যারা বাইরে থাকে তারা সারাবছর অপেক্ষায় থাকেন মেলা উপলক্ষতে গ্রামের বাড়িতে আসার।

উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের পঁচা মাগুরা গ্রামের বনমালীপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র স্কুল শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এ মেলা উপলক্ষ্যে প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার টাকার সাঁজ-বাতাসা-মিষ্টি বিতরণ করি আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে। এ ব্যাপারে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ৭১বাংলা’ এর  সম্পাদক সৈয়দ তারেক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ গ্রামীণ লোকজ মেলায় স্থানীয়রা বাদেও দূর দূরান্ত থেকে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে। এটি এলাকার মানুষের একটি প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। করোনার কারণে ২০২০ সালে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।২০২১ সালে স্বীমিত পরিসরে মেলা বসলেও এবার মহা ধুমধামে বসছে মেলা।