বিবস্ত্র হয়ে গোসল-ওজু করা যায়?

152
অন্য কারও দেখার সম্ভাবনা না থাকলে এবং একান্ত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে স্নানঘরে বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করা জায়েজ আছে।
অন্য কারও দেখার সম্ভাবনা না থাকলে এবং একান্ত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে স্নানঘরে বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করা জায়েজ আছে।

ওজু হওয়া কিংবা না হওয়া এবং ওজু ভঙ্গের কারণের সঙ্গে বিবস্ত্র অবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। ওজুর অঙ্গসমূহ পরিপূর্ণভাবে ধৌত হয়ে গেলেই বিবস্ত্র অবস্থায় থাকলেও ওজু সঠিকভাবেই হয়ে যাবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। এছাড়া ইসলামে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা জায়েজ আছে এবং গোসলের ওজুতে নামাজ জায়েজ।

অন্য কারও দেখার সম্ভাবনা না থাকলে এবং একান্ত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে স্নানঘরে বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করা জায়েজ আছে। শুধু তাই নয়, স্বামী ও স্ত্রী একসঙ্গে গোসল করার কথাও উল্লেখ আছে হাদিস শরিফে। মহানবী (সা.) তার স্ত্রী মাইমুনা (রা.) এবং আয়েশা (রা.) এর সঙ্গে একত্রে গোসল করেছেন। এটি সহীহ বুখারি ও মুসলিম দ্বারা প্রমাণিত।

বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা জায়েজ হলেও এটা একেবারেই অনুত্তম কাজ। এটা সুন্নতের পরিপন্থী। আল্লাহর রাসূল (সা.) কখনো এমনটা করেননি। মোস্তাহাব ও উত্তম হলো- পুরুষরা লুঙ্গি পরে গোসল করবে। আর নারীরা গোসল করবে পায়জামা পরে। এছাড়া নারীরা গোসলের সময় বুকের অংশ ঢেকে রাখবে ওড়না বা গামছা জাতীয় কিছু দিয়ে।

একান্ত প্রয়োজন না হলে স্নানঘরে বিবস্ত্র হয়ে গোসল না করাই ভালো। কারণ এই কাজটি হাদিসে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। এক হাদিসে বলা হয়েছে, মুয়াবিয়া বিন হাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তুমি তোমার স্ত্রী ছাড়া অন্যদের কাছ থেকে তোমার লজ্জাস্থান সর্বদা হেফাজত করো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোনো ব্যক্তি কোথাও একাকী থাকে! তিনি বললেন, অবশ্যই। কারণ আল্লাহকে অধিক লজ্জা করা উচিত। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৬৯)