বাইডেনের নির্দেশে ড্রোন হামলা চালিয়ে জাওয়াহিরিকে হত্যা (ভিডিও)

105

দুর্ধর্ষ জঙ্গী সংগঠন আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি। তাকে ধরিয়ে দিতে আড়াই লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অবশেষে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গত শনিবার বিকেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করে আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে।

এক টুইটার বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি টুইট করে জানান, শনিবার তার নির্দেশেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে আফগানিস্তানের কাবুলে আকাশ থেকে (ড্রোন) হামলা চালানো হয়। এই হামলায় আল-কায়দার আমির (প্রধান) আয়মান আল-জাওয়াহিরি নিহত হন। এর মধ্য দিয়ে যথার্থ বিচার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন জো বাইডেন।

এছাড়া টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যেও আয়মান আল-জাওয়াহিরির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন জো বাইডেন। জাওয়াহিরিকে সন্ত্রাসী নেতা উল্লেখ করে জো বাইডেন বলেন, মার্কিন নাগরিকদের ওপর হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা চালিয়েছিলেন জাওয়াহিরি। এই সন্ত্রাসী নেতা মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

গত শনিবার বিকেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আল-কায়দা প্রধানের মৃত্যু হয়। আফগানিস্তানের কাবুলে ড্রোন হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হামলার সময় আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি আফগানিস্তানের কাবুলে একটি বাড়ির বারান্দায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ড্রোন থেকে তাকে লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলা সফল হয়, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আয়মান আল-জাওয়াহিরি। একই বাড়িতে আয়মান আল-জাওয়াহিরি পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও অবস্থান করছিলেন। তবে হামলায় তাদের কোনো রকম ক্ষতি হয়নি।

এদিকে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা আন্তর্জাতিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবান যে চুক্তি করেছিল, কাবুলে জাওয়াহিরির উপস্থিতির মধ্য দিয়ে তা লঙ্ঘিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পাকিস্তানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর একই বছরের ১৬ জুন আল-কায়েদার নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয় আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে। ওসামা বিন লাদেন জীবিত থাকা অবস্থায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন আয়মান আল-জাওয়াহিরি। তাকে আল-কায়েদার দ্বিতীয় প্রধান নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

আয়মান আল-জাওয়াহিরি পেশায় শল্যচিকিৎসক ছিলেন। তাকে আল-কায়েদার তাত্ত্বিক গুরু বলেও মানা হতো। ধারণা করা হয়, ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী আয়মান আল-জাওয়াহিরি।