বাংলাদেশ এক ফিনিক্স পাখির ডানায়

88

পাশের বাড়ির রাজ্জাক সাহেবের বাড়িতে লাল নীল হলুদ সবুজ রঙের আলোকিত বাতিতে সারা পাড়ার লোকজন এক সেকেন্ডের জন্য হলেও দাঁড়িয়ে আলোগুলোর জ্বলা আর নিভা খেলা উপভোগ করতে থাকে। এমনকি গলির মধ্যে যত বিভিন্ন গাড়ি যাতায়াত করে সব পেসেঞ্জার আর গাড়িওয়ালাও একটুখানি হলেও দাঁড়ানো বাদ যায় না। এদিকে মিজান সাহেবেরও রয়েছে একটি মেয়ে। তিনি ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন। কীভাবে দিবেন তাঁর মেয়ের বিয়ে! তাঁর মেয়ের বয়স মাত্র সাত বছর। এ যেন শ্রীলঙ্কা নামক দেশের সাথে বাংলাদেশের তুলনা!

হ্যাঁ, সারা পৃথিবীতে করোনা যেখানে অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, পরিবেশ, পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করেছে, সেখানে বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে,ঐ যে পাশের বাড়ির বিয়ে মানেই আমার নিজ ঘরে মেয়ের বিয়ে নয়। নিজের ঘরের মেয়ের বিয়ে দিতে হলে রাজ্জাক সাহেবের মেয়ের মতো ২০/২২ বছরের মতো লালন পালন করতে হবে। তবেই হবে রঙিন ক্যানভাস এঁকে হরেক রঙের বাহারি বাতিতে বিয়ে।

শ্রীলংকায় করোনা যেখানে টালমাটাল অবস্থা সৃষ্টি করেছে, সেখান থেকে বাংলাদেশ কেন, সারা পৃথিবীকেই শিক্ষা নিতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি,পরিবেশ, প্রতিটি পরিবারের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

বিয়ে যেমন একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে একটু কষ্টকরও। গ্রহণ আত্মসমর্পণের এ এক অসীমের মাঝে সীমার খেলা। যে খেলায় উপভোগ করতে জানতে হয়। তেমনি করোনা হয়তো অনেক কিছু নিয়ে যাচ্ছে, যাবে। কিন্তু উপভোগ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। বিকল্প পথই যার সমাধান।

এক দশক আগেও পর্যটননির্ভর দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা যেখানে ছিল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক আর সাংস্কৃতিক, শিক্ষার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল একটি দেশ। কিন্তু সম্প্রতি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট তীব্রতর। শ্রীলংকার সড়কগুলো এখন বাতিহীন, গাড়িতে মিলছে না জ্বালানি তেল, কাগজের অভাবে হচ্ছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এখন নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয়। সোয়া দুই কোটি মানুষের দেশ শ্রীলংকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এতটাই কমেছে যে তা দিয়ে এক মাসের আমদানি ব্যয়ও মেটানো সম্ভব না।

কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, পূর্ব এশিয়ারও অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে যাওয়া শিক্ষিত দেশ শ্রীলংকা কীভাবে এই সংকটে পতিত হলো ? মধ্যম আয়ের দেশ শ্রীলংকা উন্নীত হওয়ার পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত হয়ে আসে। ফলে ,আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজার থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয় , যা কিনা স্বল্পমেয়াদি ( সাধারণত তিন থেকে ১০ বছর )। এই স্বল্পমেয়াদি ঋণ শ্রীলংকার জন্য চরম সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বর্তমানে শ্রীলংকার ঋণের পরিমাণ জিডিপির প্রায় ১০০ ভাগেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। পর্যটন শ্রীলংকার একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত , বিশেষ করে অর্থনৈতিক এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে। covid – ১৯ এর ফলে শ্রীলংকার পর্যটন খাতের রাজস্ব ২০১৯ সালের ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২০ সালে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এছাড়া , ২০২১ সালে রাজাপাকসে সরকারের সব ধরনের রাসায়নিক সার নিষিদ্ধ করে ; অর্গানিক কৃষিনীতির ফলে চাল , চা এবং অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সবজি ,ফল ও অন্যান্য কৃষি ফসলের উৎপাদন বিশালভাবে কমে যায়। কোনো কোনো প্রতিবেদন থেকে জানা যায় কিছু ফসলের উৎপাদন শতকরা ৩০ ভাগ পর্যন্ত কমে যায় এবং একইসাথে কৃষিজমির প্রায় এক তৃতীয়অংশ অনাবাদি পরে থাকে। এর ফলে খাদ্যশস্যের দাম বেড়ে যায় এবং দারিদ্র জনগণ আরো দারিদ্র হয়ে পড়ে এবং খাদ্য নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলংকার এই সংকটের মূলে রয়েছে একের পর এক সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং সরকারের কিছু অবিবেচক সিদ্ধান্ত। এর ফলে দেশটিতে দৈত্ব ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে , যেটি চলতি হিসেবের ঘাটতি এবং বাজেট ঘাটতি নামে অভিহিত। বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হলো ২০১৯ সালের নির্বাচনি প্রচারণার সময় রাজাপাকসের কর কমানোর প্রতিশ্রুতি। এবং শ্রীলংকান সরকার করোনা মহামারি শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে , যা শ্রীলংকার অর্থনীতিকে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করে।

জানা যায়, গত ১৫ বছরে শ্রীলংকা বেশকিছু ব্যয়বহুল এবং উচ্চাভিলাসী প্রকল্প গ্রহণ করেছিল, যার বেশিরভাগই অলাভজনক ছিল। এছাড়া অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রতি উদাসীনতা।

এবার আসি ফিনিক্স পাখির ডানায় কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ! ১৯৫২ সালে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নয়াচীন ভ্রমণ করেন, সেখানকার পরিস্থিতিকে তিনি তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ তে উল্লেখ করেন এভাবে,’ যুগ যুগ ধরে পরাধীনতার শৃঙ্খলে যারা আবদ্ধ ছিল ,সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যাদের সর্বস্ব লুট করেছে -তাদের প্রয়োজন নিজের দেশকে গড়া ও জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির দিকে সর্বশক্তি নিয়োগ করা। ‘ ( শেখ মুজিবুর রহমান , অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ: ২৩৪ )

আর সেই আত্মশক্তিতে বলীয়ান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা একের পর এক দেখিয়ে যাচ্ছেন তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব ও দুরূহ বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাবার যৌক্তিক কলা-কৌশলগুলো। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ডেল্টা প্ল্যান -২১০০ কাগজে কলমে যেমন সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না ,তেমনি শত মহামারি করোনাতেও বাংলাদেশ যাচ্ছে এগিয়ে। বঙ্গবন্ধু -১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে একদিকে ডিজিটাল বাংলাদেশকে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত বিশ্বের কাতারে যেমন নিয়ে যাচ্ছে ,তেমনি জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন ঘোষণায় এসেছে বিশ্ব সাফল্য। মাতৃমৃত্যুহার বর্তমানে ১৬৫ ,এছাড়া শিশু মৃত্যুহারও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। দেশ -বিদেশের সরকার ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সফলভাবে পালিত হলো মুজিব জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী-যা বঙ্গবন্ধুর দেখানো কূটনৈতিক সাফল্যের পথের আরেক উজ্জ্বল ধাপ।

জাপানের নিক্কি মিডিয়া গ্রুপ ও লন্ডনের ফিনান্সিয়াল টাইমস এর যৌথ প্রকাশিত নিক্কি covid -১৯ রিকভারি ইনডেক্স মে ২০২২ এর সংস্করণ অনুযায়ী covid -১৯ অতিমারি হতে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১২১ টি দেশের মধ্যে ৫ম শীর্ষস্থান ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের চাহিদা পূরণ করে খাদ্যশস্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ রফতানি করছে। এছাড়া তৈরি পোশাক ও রেমিটেন্স দেখে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে সাফল্যজনকভাবে। বর্তমানে কৃষি থেকে উৎপাদনমুখী শিল্পের পরিবর্তনশীল অর্থনীতির দিকে বিশেষ করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভীত বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনার দূরদর্শী কর্মকান্ডে। আর এর মধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু রেল লাইন নির্মাণ ,মেট্রো রেল প্রকল্প , বঙ্গবন্ধু টানেল ,দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন , রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র , কয়লাভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ,এলএনজি টার্মিনাল ,মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ,পায়রা ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প। এসব প্রকল্পের সবকটি উৎপাদনমুখী ,পরিবেশবান্ধব এবং জনবান্ধব। যেমনটা স্বপ্নে বাস্তবে রূপ দিলো পদ্মা সেতু।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৪.৪০ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ মাত্র ২ বিলিয়ন ডলারেরও কম। তাছাড়া বাংলাদেশের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ২৯২.১১ ডলার, আর শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১৬৫০ ডলার। উভয় দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ এবং মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দেখলে স্পষ্ট হয় শ্রীলংকের মতো হওয়ার সুযোগ কোনো অবস্থাতে বাংলাদেশের নেই।

করোনাকালে শুধু নয় , বাংলাদেশ সরকার একদম প্রান্তিক কৃষির উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়ে কৃষকদের মাঝে সার ,কৃষি যন্ত্রপাতি ও বীজ সংগ্রহ করেছে। ফলে ,জাতীয় উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্য জ্বালানিসহ সব ধরনের দাম বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশ যাতে করে নির্ঝঞ্ঝাটভাবে চলতে পারে এজন্য সরকারি -বেসরকারি সব খাতে সব বিষয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন – যা একজন দূরদর্শী নেতৃত্বের মূর্ত প্রতীক। এছাড়া ,সরকারি পর্যায়ে সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ বাদ দিতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন দূরদর্শী নেতা। প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর সেতু একটি নির্মাণ তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। সারা বিশ্ব যেখানে করোনা মহামারিতে বিধ্বস্ত,সেখানে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ শত সমস্যাকে সম্ভাবনা মনে করে এক শক্তিশালী নেতৃত্ব এর তত্ত্বাবধানে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখা এবং তা বাস্তবায়ন এক ফিনিক্স পাখির ডানায় বাংলাদেশের ভর করে সামনের দিকে এগিয়ে চলার গতিসম ।

চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বৈদেশিক তহবিল বন্ধ সত্ত্বেও দেশি অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে অসীম সাহসী বলে মন্তব্য করেছেন। যে কোনো দেশের সাধারণ কোন নেতার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব হতো কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
যখন ‘এ ডটার টেল’স ডকুড্রামাটি দেখি ,ততবারই গ্রিক পুরাণের ফিনিক্স পাখির গল্পের কথা মনে পরে । যেটি প্রায় সকলেরই জানা, প্রাচীন গ্রিক পুরাণে আছে― ফিনিক্স হলো এক পবিত্র আগুন পাখি। এই আগুন পাখির জীবনচক্র আবর্তিত হয় হাজার বছর ধরে। কথিত আছে একবার বিপদসংকুল এই পাখিটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দগ্ধীভূত এই পাখি তার ছাইভস্ম থেকেই জন্ম নেয় আবার। লাভ করে নতুন জীবন। শুরু হয় তার অবিনাশী যাত্রা। ‘এ ডটার টেল’স দেখতে দেখতে সেই পুরাণের পাখিটির কথাই বারবার মনে আসলো এবং একইসাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে যেখানে যাই পড়ি না কেন তাঁর জীবন যেন রূপকথার গল্পকেউ হার মানায় । একজন ব্যক্তি শেখ হাসিনার জীবন বাস্তবতার গল্প নয়, এ যেন শত আঘাত-প্রত্যাঘাত, ঝটিকার বেগে উত্তাল ও আলোড়িত, কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে, থমকে না দাঁড়িয়ে ,হাল না ছেড়ে, শেষ না দেখে— অসম সাহসী যুদ্ধে লড়ে ঘুরে দাঁড়ানো দৃপ্ত মনোবলের আশাবাদী এক বাংলাদেশের গল্প। যে গল্পে বাস্তব জীবন কখনো কাল্পনিক গল্প, উপন্যাস, চলচ্চিত্রকেও হারমানায় । ও ডটার’স টেল’ দেখতে দেখতে মনে পড়ে শেখ হাসিনার জীবন সত্যি পুরাণের সেই ফিনিক্স পাখির মতো। যাঁর পাখায় ভর দিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সর্বোপরি ,শত ঝঞ্ঝার মধ্যেও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ সেই প্রত্যাশায়।

লেখক : আফরোজা নাইচ রিমা