বাংলাদেশ উজবেকিস্তানে সার কারখানা স্থাপনে আগ্রহী : শেখ হাসিনা

76

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে উজবেকিস্তানে সার কারখানা স্থাপন করতে আগ্রহী। উজবেকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে উজবেকিস্তানের বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী এবং বিনিয়োগ ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী জামশিদ আবদুরাখিমোভিচ খোদজায়েভের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন শেখ হাসিনা।

জামশিদ আবদুরাখিমোভিচ খোদজায়েভের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় শেখ হাসিনা বলেন, উজবেকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় বাংলাদেশ। উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সুবিধার্থে একসঙ্গে কাজ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তরুণ ও প্রাণবন্ত জনশক্তিকে পুঁজি করে সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে উজবেকিস্তানের তাসখন্দ সফর করেছিলেন জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, সেই সফর বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, স্থানীয় বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করার জন্য বাংলাদেশ কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শিল্পায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ সব দেশের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। এর জন্য জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। বিশ্ব সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

এসময় বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী জামশিদ আবদুরাখিমোভিচ খোদজায়েভ বলেন, বাংলাদেশ উজবেকিস্তানের সম্ভাবনাময় অংশীদার। আমরা এটিকে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তর করতে চাই।

উজবেকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী বলেও জানান উজবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উজবেকিস্তানে ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যালস ও আইসিটি খাতে তিনি বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও কৃষি খাতের উন্নয়নের ব্যাপক প্রশংসা করেন। তিনি জানান, ঢাকায় উজবেক দূতাবাস স্থাপনের আশা করছে উজবেকিস্তান।

গণভবনে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান দ্বৈত কর পরিহারের জন্য কাজ করতে একমত পোষণ করে। শেখ হাসিনাকে উজবেক প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিওয়েভের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন উজবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনাও উজবেক প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা জানান। তাকে বাংলাদেশে সফর করার জন্য আমন্ত্রণও জানান শেখ হাসিনা। এসময় প্রধানমন্ত্রী উজবেকিস্তানকে সব ধরনের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।