প্রায় কোটি টাকা পুরস্কার পেলেন দেশের ৭৫ জন সাংবাদিক (ভিডিও)

313

চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও চিত্রনায়িকা বুবলির উপস্থাপনায় জমকালো আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২১ প্রদান অনুষ্ঠান। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের ৭৫ জন সাংবাদিককে প্রায় এক কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

১১ জন সাংবাদিককে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য প্রত্যেককে আড়াই লাখ টাকা এবং মফস্বল সাংবাদিকতায় ৬৪ জন প্রবীণ সাংবাদিকের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে সর্বমোট ৯১ লাখ ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক সাংবাদিক পেয়েছেন সম্মাননা স্মারক এবং সনদপত্র।

গত বছর দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিচার বিশ্লেষণ করে ৫টি ক্যাটাগরিতে ১১ জনকে নির্বাচন করে জুড়িবোর্ড। পুরস্কারপ্রাপ্ত ১১ সাংবাদিকের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে দ্য ডেইলি স্টারের আহমাদ ইশতিয়াক (প্রিন্ট), মাছরাঙা টেলিভিশনের কাওসার সোহেলী, জাগো নিউজের সালাহ উদ্দিন জসিম (অনলাইন), অপরাধ ও দুর্নীতি ক্যাটাগরিতে দেশ রূপান্তরের শোয়েব চৌধুরী (প্রিন্ট), গাজী টিভির জান্নাতুল ফেরদৌসী, নিউজ বাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফ্রিল্যান্সার জেসমিন পাপড়ি (অনলাইন), নারী ও শিশু ক্যাটাগরিতে সমকালের রাজীব আহাম্মদ (প্রিন্ট), আনন্দ টিভির শওকত সাগর, ঢাকা পোস্টের আদনান রহমান (অনলাইন), অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রে মাছরাঙা টেলিভিশনের মাজাহারুল ইসলাম এবং আলোকচিত্রে প্রথম আলোর দীপু মালাকার।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আয়োজিত বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এসময় পুরস্কার পাওয়া সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ ধরনের পুরস্কার প্রদান অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও সার্বিকভাবে সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করবে।

ড. হাছান আরও বলেন, সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা যা সমাজকে সঠিকখাতে প্রবাহিত করতে, সমাজের তৃতীয় নয়ন খুলে দিতে এবং অবহেলিত দিকগুলোতে সমাজের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে ভূমিকা রাখে। অন্য কোনো পেশার মানুষ তা পারে না।

তথ্যমন্ত্রী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিষয়ে বলেন, এ ধরনের সাংবাদিকতায় ঝুঁকি থাকে। জীবন বিপন্ন হতে পারে। সেসব অতিক্রম করে সাংবাদিককে কাজ করতে হয়। পথের পাশের বিপন্ন মানুষগুলোর জীবনের যে গল্প, যে বেদনা, সেটি তুলে আনতে পারে অনুসন্ধানী সাংবাদিকই। সমাজ যাদের দিকে তাকানোর সুযোগ পায় না, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সেই মানুষের না বলা কাহিনী তুলে ধরে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার মনে করে, গণমাধ্যমের বিকাশের সাথে রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক সমাজের বিকাশ নিহিত। সে কারণেই বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে গত সাড়ে ১৩ বছরে সংবাদপত্র, বেতার, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিটি ক্ষেত্র যুগান্তকারী বিকাশ লাভ করেছে। একইসাথে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও আইনবিরোধী চর্চা কমে এসেছে। সমালোচনাকে সমাদৃত করার সংস্কৃতিতে আমরা বিশ্বাস করি, লালন করি। সমালোচনা পথ চলাকে শাণিত করে, কাজকে বিশুদ্ধ করে।

পুরস্কারের জুরিবোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান, দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সম্পাদক অমিত হাবিব, লেখক নাসির আলী মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া, সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার ও সাংবাদিক জুলফিকার আলি মানিক।