বরিশালে ৫ দিনে মারা গেছে ২৩ নবজাতকসহ ৭০ রোগী

94

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈদের আগে ও পরে ৫ দিনে ২৩ জন নবজাতকসহ ৭০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঈদের সরকারি বন্ধের ৩ দিনে ২ শিশু ও ১১ নবজাতকসহ ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঈদের বন্ধে ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮৩ জন এবং পালিয়েছেন ৫ জন রোগী।

হাসপাতালের পরিচালক কার্যালয়ের ভর্তি রেজিস্ট্রার থেকে জানা যায়, গত ৭ জুলাই শের-ই বাংলা মেডিকেলে নতুন ৩শ ৫১ জন রোগী ভর্তি হয়। এদিন চিকিৎসায় সুস্থ্য হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১শ ৫১ জন রোগী। স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়েছেন ৩২ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে গেছেন ৩৮ জন। পালিয়ে গেছে ৩ জন। চিকিৎসাধীন ছিলো ১ হাজার ৭৩ জন রোগী। ওইদিন ৪ নবজাতক এবং ৩ জন শিশুসহ ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

৮ জুলাই ২শ ৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। সুস্থ্য হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২শ ২৫ জন রোগী। যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়েছেন ৮৩ জন রোগী। অন্য হাসপাতালে গেছেন ২৯ জন এবং পালিয়েছে ১৩ জন রোগী। চিকিৎসাধীন ছিলো ১ হাজার ৪৩ জন রোগী। এদিন ৮ জন নবজাতকসহ ১৫ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ঈদের সরকারি বন্ধের প্রথম দিন ৯ জুলাই ৩শ ৪৬ জন রোগী ভর্তি হয়। ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি গেছেন ২শ ৪৫ জন। স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়েছেন ১শ ১৬ জন। অন্য হাসপাতালে গেছেন ২১ জন। চিকিৎসাধীন ছিলো ১ হাজার ১২ জন রোগী। ওইদিন ৫ নবজাতক এবং ২ শিশুসহ ১৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ঈদের দিন ১০ জুলাই নতুন ৩শ ৫ জন রোগী ভর্তি হয়। ছাড়পত্র নেয় ১শ ৩৭ জন রোগী। স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নেয় ১শ ৬২ জন। অন্য হাসপাতালে যায় ২৩ জন এবং পালিয়ে যায় ২ জন রোগী। ঈদের দিন ২ নবজাতকসহ ৬ জন রোগীর মৃত্যু হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

ঈদের পরদিন ১১ জুলাই ৪শ ১৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। ছাড়পত্র নেয় ১শ ৬৫ জন। স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নেয় ১শ ৫ জন। অন্য হাসপাতালে যায় ৩১ জন এবং পালিয়ে যায় ৩ জন রোগী। এ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ নবজাতকসহ ১৪ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. মনিরুজ্জামান জানান, হাসপাতালে গড় মৃত্যুর হার স্বাভাবিক আছে। ঈদের বন্ধে মেডিসিন, সার্জারী, গাইনী ও প্রসুতি, শিশু বিভাগ এবং জরুরী বিভাগসহ পুরো হাসপাতাল হিন্দু ধর্মাবলম্বী চিকিৎকদের দিয়ে সচল রাখা হয়েছে। কোথাও কোন সমস্যা হয়নি। তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট ২শ ২৫টি পদের বিপরীতে ১শ ৪৭ জন পদায়ন আছে। ঈদের স্বাভাবিক বন্ধে তেমন কেউ ছুটি নেয়নি। সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চলেছে বলে তিনি দাবি করেন।