বরিশালে পরকীয়ার বলি কিশোরী সন্তান, মা গ্রেপ্তার

569
বরিশালে মায়ের সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমিককে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় এক কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে।
বরিশালে মায়ের সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমিককে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় এক কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে।

বরিশালে মায়ের সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমিককে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় এক কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যার শিকার কিশোরীর নাম তন্নি আক্তার (১৩)। মায়ের সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমিকের শারীরিক সর্ম্পকের কথা বাবাকে বলে দেওয়ার কথা বললে তারা দুজন (মা ও তার পরকীয়া প্রেমিক) মিলে তন্নি আক্তারকে ঘরের মেঝেতে ফেলে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে বরিশাল জেলার কাউনিয়া থানাধীন ০৯ নং ওয়ার্ড ছোট রাজাপুর এলাকায়। এই ঘটনায় কাউনিয়া থানায় নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন নিহত কিশোরীর বাবা।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী তার নতুন বাড়ি থেকে পুরাতন বাড়িতে মাছ ধরার বেরচাঁই আনার জন্য যান। ঘটনার দিন আনুমানিক দুপুর ২টায় বাদীর বাড়ির পাশ থেকে একজন বাদীর ভাইকে ফোন করে জানান যে, বাদীর মেয়ে মোসাঃ তন্নি আক্তার (১৩) মারা গেছে।

বাদী সংবাদ পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন। এসে দেখেন তার মেয়ে মারা গেছে এবং ঘরের বারান্দায় মেয়ের লাশ শোয়ানো অবস্থায় আছে। বাদী তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তার স্ত্রী জানায়, মেয়ে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বাদী সহজ সরল মনে বিষয়টি মেনে নিয়ে পুলিশকে অবহিত করে।

কাউনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদীর মেয়ের লাশের সুরতহাল করে। লাশের ময়নাতদন্ত করার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কাউনিয়া থানার অপমৃত্য মামলা রুজু হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে বাদীর মেয়ের লাশ নিয়ে দাফন করা হয়। মেয়ের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের কাছে বাদী শোনেন যে, পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক বাসিন্দার সঙ্গে বাদীর স্ত্রীর এক বছর যাবৎ পরকীয়া সর্ম্পক আছে। যেহেতু বাদী তার মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়নি সেহেতু বাদীর মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। সন্দেহ থেকে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বাদী।

এক পর্যায়ে বাদীর কাছে তার স্ত্রী স্বীকার করেন যে, পাশের গ্রামের ওই বাসিন্দার সঙ্গে তার প্রায় এক বছর আগে থেকে প্রেমের সর্ম্পক। পরকীয়া সর্ম্পকের সূত্র ধরে তারা বিভিন্ন সময় শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করেন। ঘটনার দিন বাদীর মেয়ে মৃত মোসাঃ তন্নি আক্তার তাদেরকে শারীরিক সর্ম্পকরত অবস্থায় দেখে ফেলে।

তন্নি আক্তার তার বাবাকে (বাদী) তাদের শারীরিক সর্ম্পকের কথা বলে দেওয়ার কথা বললে তারা দুজন (মা ও তার পরকীয়া প্রেমিক) মিলে তন্নি আক্তারকে ঘরের মেঝেতে ফেলে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

হত্যাকান্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মৃত মেয়ের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে পরকীয়া প্রেমিক পালিয়ে যায়। এরপর মৃত মেয়ের মা নাটক সাজায়। চিৎকার ও কান্নাকাটি করে মানুষ জড়ো করে এবং ওড়না কেটে লাশ নিচে নামিয়ে রাখে।

এলাকাবাসীরা জানান, ছোট রাজাপুর গ্রামের সোহরাব হাওলাদারের স্ত্রী লিপি আক্তার পরকীয়ার সম্পর্কে জড়ান একই ইউনিয়নের রামকাঠি গ্রামের নুরু খানের ছেলে কবির খানের সঙ্গে। গত ২৭ মে দুপুরে লিপি আক্তার ও প্রেমিক কবির খানের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলে তন্নি আক্তার।

অনৈতিক কর্মকান্ডের কথা তন্নি আক্তার তার বাবাকে বলে দেওয়ার কথা বলে। এসময় ঘাতক মা লিপি আক্তার ও তার পরকীয়া প্রেমিক কবির খান মিলে তন্নিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় গত ২৭ মে কাউনিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন লিপি আক্তার। কিন্তু পরে তার কুকীর্তির কথা ফাঁস হয়ে যায়। শনিবার, ৪ জুন ঘাতক মা লিপি আক্তারকে গ্রেপ্তার করে কাউনিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়ার পর লিপি আক্তার এই ঘটনায় তিনি জড়িত জানিয়ে বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দী দেন।