মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ফেনী জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

202
মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ফেনী জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ফেনী জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ফেনী প্রতিনিধি : ফেনী জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
 ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা

প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ- উল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপারেশন) নাদিয়া ফারজানা, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনীর সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল মোতালেব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মোস্তফা হোসেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলার তথ্য অফিসার রেজাউল রাব্বী মনির। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পরপরে মূল আলোচনা পর্ব শুরু হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মোস্তফা হোসেন এবং আবদুল মোতালেব তাঁদের রনাঙ্গণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। মুজিবনগর সরকার গঠণের পর তাঁরা একটি কর্তৃপক্ষ পায় যাদের নেতৃত্বে তাঁরা যুদ্ধে আরো প্রবলভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল তাঁর বক্তব্যে মুজিবনগর সরকার গঠনের প্রাসঙ্গিকতা বর্ণনা করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য একটি সরকার সৃষ্টি অত্যাবশ্যক ছিলো। এরই আলোকে এই সরকার গঠন করা হয়।

মেহেরপুর জেলার সীমান্তে স্থান নির্বাচন করা হয় যেন পাকিস্তানের আক্রমণ এড়ানো যায়। ভারত যেহেতু মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্বক সহায়তা করেছে, তাই ভারতের সহায়তায় সীমান্তবর্তী মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া ফারজানা শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন বই পড়ার আহবান জানান। জাতিকে নেতৃত্ব দিতে হলে অবশ্যই দেশের ইতিহাস জানতে হবে বলে তিনি অবহিত করেন।

জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন ১৭ এপ্রিল, আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে, সরকার গঠনকে, দেশ গঠনকে এবং পরবর্তীতে সংবিধানকে বৈধতা দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সকল মানুষকে একই সূত্রে বা ধারায় নিয়ে আসতে পেরেছেন বলেই তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর সহযোদ্ধাদের দ্বারা গঠিত সরকারকে সবাই একবাক্যে মেনে নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের শপথ গ্রহণ সফল করার জন্য বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ যথা ঐ সময়ের কর্মকর্তাবৃন্দ,

রাজনীতিবিদ, আপামর জনসাধারণ অভূতপূর্ব অবদান রাখেন। বিশেষ করে তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমা প্রশাসক তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, পুলিশের এসডিপিও মাহবুব উদ্দিন চৌধুরীর অবদান অনস্বীকার্য।

তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই অনুষ্ঠান সফল করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন বই পড়ার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।