Home খবর ধর্ম ফজর, মাগরিব, এশার নামাজে সুরা উঁচু আওয়াজে পড়তে হয় কেন?

ফজর, মাগরিব, এশার নামাজে সুরা উঁচু আওয়াজে পড়তে হয় কেন?

সাধারণত ফজর, মাগরিব এবং এশার নামাজের ওয়াক্তে চারপাশ নীরব ও শান্ত থাকে।
সাধারণত ফজর, মাগরিব এবং এশার নামাজের ওয়াক্তে চারপাশ নীরব ও শান্ত থাকে।

জোহর ও আসরের নামাজে নিচু আওয়াজে আর ফজর, মাগরিব এবং এশার নামাজে উঁচু আওয়াজে সুরা পড়ার বিধান রয়েছে। বিষয়টি খুবই যুক্তিসংগত। এই বিধান মহান আল্লাহর অসীম কুদরতেরই প্রমাণ।

সাধারণত ফজর, মাগরিব এবং এশার নামাজের ওয়াক্তে চারপাশ নীরব ও শান্ত থাকে। এসময় লোকজনের কাজের ব্যস্ততাও তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তাছাড়া এই সময়ে লোকজন চিন্তা-ভাবনাও কম করে থাকে। তাই এই সময়ে যে সুরা পড়া হয় তা মানুষের মনে বেশি প্রভাব ফেলে। মন চিন্তা-ভাবনা থেকে মুক্ত থাকে বলে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচ্ছন্ন থাকে। বাইরের শব্দ ও কোলাহল খুব বেশি কানে প্রবেশ না করায় কোনো কথা শুনতে ও বুঝতে বেশি আগ্রহী থাকে মন।

শান্ত পরিবেশে কোনো কথা বললে তা কান দিয়ে মনে প্রবেশ করে ও পূর্ণ প্রভাব তৈরি করতে পারে। এছাড়া মানুষের দরাজ ও মিষ্টি কণ্ঠের আওয়াজ দিনের তুলনায় রাতে অনেক বেশি শ্রুতিমধুর শোনায়। মূলত এসব কারণেই ফজর, মাগরিব ও এশার নামাজের সময় সুরা উঁচু আওয়াজে পড়তে হয়।

এ বিষয়ে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই ইবাদতের জন্য রাতে ওঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল।’ (সূরা : মুজ্জাম্মিল, আয়াত: ৬)

অন্যদিকে জোহর ও আসরের নামাজে নিচু আওয়াজে সুরা পড়ার বিধান রয়েছে। কারণ দিনের বেলা হইচই ও শোরগোল লেগেই থাকে। এসময় লোকজনের কর্মব্যস্ততা বেশি থাকে। নানা চিন্তায় ডুবে থাকে মন। মন বেশি ব্যস্ত থাকে বলে কথার প্রতি মনোযোগও থাকে কম। মূলত এ কারণেই জোহর ও আসরের নামাজে উঁচু আওয়াজে সুরা পড়ার বিধান করা হয়নি। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই দিবাভাগে রয়েছে আপনার দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা।’ (সূরা: মুজ্জাম্মিল, আয়াত: ৭)

Exit mobile version