প্রেমের টানে সিলেটে এনে তরুণীকে গণধর্ষণ

299
সরল মনে প্রেমিককে বিশ্বাস করে প্রেমের টানে সিলেটে ছুটে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী।
সরল মনে প্রেমিককে বিশ্বাস করে প্রেমের টানে সিলেটে ছুটে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী।

আবুল কাশেম রুমন, সিলেট থেকে : প্রেম মানে না কোনো বাধা, নেই প্রেমের কোনো জাত ভেদাভেদ। সরল মনে প্রেমিককে বিশ্বাস করে প্রেমের টানে সিলেটে ছুটে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে। উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর গ্রামে ওই তরুণী গণধর্ষণের শিকার হন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সরাইল থানার শাহবাজপুরের জাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা।

এই ঘটনায় শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ধর্ষিতা যুবতী বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৫ জনকে আসামী করে দায়ের করেন। মামলা নং- ০৪ (৭) ২২। মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর মাইজগাঁও গ্রামের আহাদ মিয়ার ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩২), একই গ্রামের তছর মিয়া চৌধুরীর ছেলে সাইফুর রহমান চৌধুরী রানা (৩৮) ও গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের পূর্ব ব্রাহ্মণগ্রাম গ্রামের আকলু হোসেন লুদু মিয়ার ছেলে মো. কামাল হোসেন (৩৪)।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বছরখানেক আগে মোবাইল ফোনে আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের চাতলপাড় এলাকার রুবেল নামের এক যুবকের। এরই সূত্র ধরে রুবেল বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তরুণীকে গত বুধবার বিকেলে সিকন্দরপুর গ্রামে আসতে বলেন প্রতারক প্রেমিক রুবেল। তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে নিজের বাড়ি ছেড়ে রুবেলের কাছে চলে আসেন ওই তরুণী। এরপর রুবেলসহ অজ্ঞাত আরেকজন এবং গ্রেফতারকৃতরা নির্জন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক পালাক্রমে রাতভর ওই তরুণীকে হাত বেঁধে ধর্ষণ করে।

শুধু তাই নয়, রাতভর ধর্ষণের পর ভোরবেলা বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) আসামীরা তরুণীর কাছে থাকা বিশ হাজার টাকা মূল্যের এ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন ও পাঁচ আনা ওজনের ২টি স্বর্ণের দুল এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে কয়েকজন যুবকের সহায়তায় ওই তরুণী ওসমানীনগর থানায় হাজির হয়ে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন বলেন, নির্যাতিত যুবতীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর তিনজন ধর্ষক গ্রেফতার হয়েছে। পলাতকদেরও গ্রেফতাররে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।