প্রতি বছর ২২ লক্ষ কর্মক্ষম যুবক পাচ্ছে দেশ : প্রধানমন্ত্রী

76

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ অনুকূল জনমিতিক সুবিধা ভোগ করছে। ২০৩৩ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা ভোগ করবে দেশ। বর্তমানে প্রতি বছর ২২ লক্ষ কর্মক্ষম যুবক শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে।

এই বিপুল যুবশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যথায় জনমিতিক সুবিধাকে জনমিতিক লভ্যাংশে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না। জনমিতিক সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নের পথ সুগম করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।

যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার কাজ আমি করে খাবো। আমি চাকরির পেছনে ছুটবো না, নতুন চাকরি দেবো। আমাদের যুব সমাজকে সেটা অনুধাবন করাতে হবে।

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, বর্তমান সরকার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর লক্ষ্যে সক্ষমতা অর্জনের জন্য তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ কর্মশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে বক্তব্য প্রদানের সময় এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যুব সমাজকে নিয়মিত অধ্যয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য পড়াশোনা না করে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। অনেকে শুধু বিএ, এমএ পাস করেই চাকরির পেছনে ছুটে বেড়ায়। তারা যেন স্বপ্রণোদিত হয়। আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না। বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে না। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের জনশক্তিকে আমরা গড়ে তুলতে চাই।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, শুধু বিএ, এমএ পাশ করে লাভ নেই। আমি চাই কৃষি কলেজ, কৃষি স্কুল, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল ও কলেজে যাতে সত্যিকারের মানুষ পয়দা হয়। বুনিয়াদি শিক্ষা নিলে কাজ করে খেয়ে বাঁচতে পারবে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমরা চাই যাতে আমাদের দেশের যুব সমাজ সুদক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে ওঠে। যত বেশি দক্ষ জনশক্তি আমরা গড়তে পারবো আমাদের দেশের কাজে যেমন লাগবে, আবার বিদেশেও লাগবে। আমরা চাই আমাদের দেশটা এগিয়ে যাক।

বিশ্বের নানা দেশের শ্রম বাজারে দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা আছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, (বিশ্বের) অনেক দেশ এখন বয়োবৃদ্ধের দেশে পরিণত হয়েছে। (অন্যদিকে) আমাদের বিপুল সংখ্যক যুব শ্রেণি আছে। কাজেই আমরা চাই শ্রম বাজারে যে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে সেই সাথে তারা নিজেদের উপযুক্তভাবে গড়ে তুলবে। শুধু শ্রম বাজার না, শ্রম শিল্প সব দিক থেকেই। আমি মনে করি বিশ্ব একটা গ্লোবাল ভিলেজ। আমাদের অনেক কর্মী বিদেশে কাজ করে। সরকার তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বলেও জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে দক্ষতা মেলার আয়োজন করা যেতে পারে। বিদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশী কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, শুধু রেমিটেন্সের ওপর নির্ভর করলে হবে না। আমাদের এখানে উৎপাদন বাড়াতে হবে। রপ্তানি বাড়াতে হবে। আরও কী কী পণ্য আমরা রপ্তানি করতে পারি তার জন্য নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। সেসব পণ্য আমরা কীভাবে উৎপাদন করতে পারি অথবা আমরাও কীভাবে বিদেশে বিনিয়োগ করতে পারি সেই চিন্তা থাকতে হবে।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ও এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।