প্রতিবেশী পরকীয়া প্রেমিকার ঘরে ঢুকে ধরা মসজিদের ইমাম, তারপর যা হলো

244
প্রতিবেশী পরকীয়া প্রেমিকার ঘরে ঢুকে ধরা খেলেন মসজিদের ইমাম, করতে হলো বিয়ে
প্রতিবেশী পরকীয়া প্রেমিকার ঘরে ঢুকে ধরা খেলেন মসজিদের ইমাম, করতে হলো বিয়ে

দিন, সপ্তাহ বা মাস নয়, টানা দুই বছর ধরে ফজরের নামাজ পড়ানোর অজুহাত দেখিয়ে সময়ের আগেই নিজের ঘর থেকে বের হয়ে যেতেন মসজিদের ইমাম সাহেব। কিন্তু ঘরের স্ত্রীকে দেখানো অজুহাত অনুযায়ী মসজিদে না গিয়ে সোজা চলে যেতেন পরকীয়া প্রেমিকার বাড়িতে। ভাসতেন অবৈধ প্রেমের জোয়ারে। নিয়ম করে প্রতি রাতেই প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে মেতে উঠতেন আদিম হিংস্রতায়। না, সিনেমা কিংবা টিভি সিরিজের কোনো ঘটনা নয়, বাস্তবেই এমনটা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায়।

শাহজাদপুর উপজেলার ইটভাটা শ্রমিক কালু মিয়ার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা খেয়েছেন সড়াতৈল খলিফাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মো. সাইফুল ইসলাম। একজন ইমাম এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানোয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শাস্তি হিসেবে ওই ইমামকে তার পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম মো. সাইফুল ইসলাম উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের ব্রজবালা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। সাইফুল বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। মজার বিষয় হলো, তার পরকীয়া প্রেমিকা একই গ্রামের স্বপ্না খাতুনও বিবাহিত ও দুই সন্তানের জননী।

ব্রজবালা গ্রামের দরিদ্র ইটভাটা শ্রমিক কালু মিয়া। জীবিকার তাগিদে রাতের বেলা ঘরের বাইরে থাকতে হয় তাকে। দৈনিক রাত ২টার দিকে ইটভাটায় চলে যান কালু মিয়া। ইটভাটায় আট ঘণ্টা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ঘরে ফেরেন সকাল ১০টায়।

রাতের বেলা স্বপ্না খাতুনের স্বামী ঘরে না থাকার সুযোগটিকে কাজে লাগাতে স্বপ্নার সঙ্গে অবৈধ পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক সঙ্গে স্থাপন করেন সাইফুল। প্রতি রাতে নিয়ম করে যেতে থাকেন পরকীয়া প্রেমিকের ঘরে। কিন্তু কথায় বলে, চোরের দশদিন, গৃহস্থের একদিন। বরাবরের মতো গত শুক্রবার রাতেও প্রেমিকার কাছে যান সাইফুল।

শুক্রবার রাত ৩টার দিকে সাইফুল ঢোকেন স্বপ্নার ঘরে। এসময় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় স্বপ্নার শ্বশুর-শাশুড়ির। তারা পুত্রবধূর ঘরে বাইরের কারও উপস্থিতি টের পেয়ে যান। এরপর পুত্রবধূর ঘরে ঢোকেন তারা। ঘরে ঢুকেই সাইফুল ও স্বপ্নাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এভাবে মসজিদের ইমাম সাইফুলকে হাতেনাতে ধরে ফেলার পরপরই চিৎকার করলে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে সাইফুলকে আটকে রাখে। পরদিন শনিবার রাতে গ্রাম্য সালিস বসে। সালিস বৈঠকের পরপরই চার লাখ টাকা কাবিনে সাইফুলের সঙ্গে স্বপ্নার বিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গ্রাম সালিসের সভাপতি ও কাশিনাথপুর আবদুল মজিদ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবদুল কুদ্দুস জানান, মসজিদের ইমাম সাইফুল ইসলাম অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া করে আসছিল। এক পর্যায়ে তিনি জনতার হাতে ধরা পড়েন। এরপর বিচার করে চার লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।