পুলিশ কনস্টেবল হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

98
পুলিশ কনস্টেবল হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন
পুলিশ কনস্টেবল হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

আকতারুজ্জামান, মেহেরপুর প্রতিনিধি : মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পীরতলা পুলিশ ক্যাম্পে কর্তব্যরত পুলিশের কনস্টেবল আলাউদ্দীন হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুর অতিরিক্ত জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রিপতি কুমার বিশ^াস এ রায় প্রদান করেন। দন্ডিতদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

দন্ডিতরা হচ্ছে- কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের কালু মন্ডলের ছেলে আনিস মন্ডল(৩৩), একই গ্রামের আব্দুল মালেক মন্ডলের ছেলে তাহাজুত হোসেন (৩০), সোনাউল্লাহর ছেলে শাকিল হোসেন(২৯) ও রুবেল হোসেন (৩০)।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই গাংনী উপজেলার পিরতলা পুলিশ ক্যাম্পের ইন্চার্জ এস আই সুবীর রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বামুন্দি-কাজিপুর এলাকায় টহল প্রদান করছিলেন। মাইক্রোবাস যোগে মাদক পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পীরতলা সাহেবনগর নামক স্থানে অবস্থান নেন পুলিশের টীম। তারা মাইক্রোবাসটিকে আটকানোর জন্য রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। মাইক্রো চালক কৌশলে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় কনস্টেবল আলাউদ্দীন মাইক্রোটিকে আটকের চেষ্টা করলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়। আলাউদ্দীন মাইক্রোবাসের বাম্পারে আটকে গেলে তাকে টেনে হেঁচড়ে ঘটনাস্থল থেকে অন্ততঃ দেড় কিলোমিটার দুরে ফেলে দেয়া হয়। আলাউদ্দীনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ঘটনাস্থলের সন্নীকটে ৩৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামেন। কনস্টেবল আলাউদ্দীনকে হত্যা ও মাদক পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রো বাস যার নং- কুষ্টিয়া চ- ০২-০০১১ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রাম থেকে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় বাদী হয়ে গাংনী থানায় আনিছ মন্ডল, তাহাজুত হোসেন শাকিল হোসেন সিদ্দিক ও রুবেলকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন পিরতলা পুলিশ ক্যাম্পের ইন্চার্জ এস আই সুবীর রায়। যার সেশন মামলা নং১৩৪/২০১৬। জি আর কেস নং২২০/১৫। একই সাখে মাদক মামলায় চার্জশীটে অন্তর্ভূক্ত করা হয় আতিউর রহমানকে।

বিজ্ঞ আদালত মামলার বাদী বিবাদী ও স্বাক্ষিদের জবানবন্দী গ্রহণ শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। এদিকে একই ঘটনায় ফেনসিডিল রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আনিস মন্ডল, তাহাজুত হোসেন, শাকিল হোসেন এবং রুবেল হোসেনকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন আহসানুল হক খোকন ও কামরুল হাসান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্তি পাবলিক প্রসিকিউটর কাজি শহিদ।