পুলিশের স্ত্রী পেলেন আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর

106

বিপ্লব তালুকদার, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : সত্য রানী ত্রিপুরা। থাকেন খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার মংতু চৌধুরী পাড়ায়। তার স্বামীর নাম রনজিৎ ত্রিপুরা। চাকরি করেন পুলিশে। বর্তমানে কর্মরত আছেন ফেনী জেলা পুলিশে। এই সরকারি চাকরি করা ব্যক্তির স্ত্রীর নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর।

একজন পুলিশ সদস্যের স্ত্রী কীভাবে পেলেন এই ঘর তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে। যাদের নেই কোনো থাকার ঘর, নেই উপার্জন করার লোক তারা এই আশ্রয়নের আওতায় না এসে কীভাবে আসে চাকরিজীবীর পরিবার!

সরকারিভাবে সারাদেশে বিভিন্ন আশ্রয়হীন মানুষদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ঘর। আর সেই ঘর প্রকৃত মানুষরা না পেয়ে যদি সরকারি চাকরিজীবীর পরিবার পায় তাহলে কেমন লাগে পাশের অসহায় মানুষদের? অনেক পরিবার ঘর না থাকার কারণে ভাঙ্গা ঘরে মাথা গুঁজে আছে অনেক কষ্টে। কিন্তু অনেকজনে ঘর পেয়ে তাতে পালন করছে হাঁস মুরগী।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হলো সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর। কিন্তু কেউ থাকে না এই ঘরে। পালন করা হয় হাঁস ও মুরগী। ঘর বরাদ্দ পাওয়া পরিবার ভাড়ায থাকেন পাশের তিনতলা বিল্ডিংয়ে।

সরেজমিনে মাটিরাঙ্গা সদরের মংতু চৌধুরী পাড়ায় গিয়ে দেখা মেলে পাশের একটি বিল্ডিংয়ে ভাড়ায় থাকেন পুলিশ সদস্যর স্ত্রী সত্য রাণী ত্রিপুরা। আর সরকারি ঘরে পালন করা হচ্ছে হাঁস মুরগী।

সত্য রানী ত্রিপুরার সাথে কথা বলে জানা যায়, সবার মতো করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেছেন ঘরের জন্য। কিছুদিন পর তাকে ফোন করে জানিয়েছে ঘর বরাদ্দ হয়েছে। ঘরের কাজ শেষ করে বুঝিয়ে দিয়েছে তার হাতে। কিন্তু এই ঘরে কোনোদিন থাকা হয়নি পরিবারের লোকজনের। এই সরকারি ঘরে কোনো পানি এবং বিদ্যুৎয়ের ব্যবস্থা নাই। তাই থাকার অনুপযোগী। এজন্য পাশের বিল্ডিংয়ে ভাড়া থাকেন তিনি। যদি এসবের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে থাকা যেত।

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি যেন তদন্ত করা হয় এবং যথাযোগ্য দরিদ্র পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর।

পুলিশের স্ত্রীর পাওয়া ঘরের বিষয়ে জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৃলা দেব বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক দুঃস্থ, অসহায়, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধীদের আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। অন্য কোনো কিছুকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।