পীরগঞ্জে সরকারি কাজে বাধা প্রদানকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৬ পুলিশ আহত, আটক ৬

103
রংপুরের পীরগঞ্জে সরকারি কাজে বাধাপ্রদানকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৬ পুলিশ আহতের ঘটনায় আটক ৬
রংপুরের পীরগঞ্জে সরকারি কাজে বাধাপ্রদানকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৬ পুলিশ আহতের ঘটনায় আটক ৬

(পীরগঞ্জ) রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের পীরগঞ্জে সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে অপরপক্ষের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নারী পুলিশসহ ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর শানেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মাষ্টার (৩৬) তার স্ত্রী, কন্যা ও বোনসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরে সরকারী কাজে বাধা দেয়ার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ছয়জনকে রাতেই জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

বুধবার শানেরহাট ইউনিয়নের পাহাড়পুর মৌজায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে মিজানুর রহমান মাষ্টার পাহাড়পুর মৌজায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি গভীর নলকূপ অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সম্প্রতি একই মৌজায় নিজস্ব জমিতে কাজীপাড়া গ্রামের হামিদ সরদারের ছেলে রশিদ সরদার সেচ পাম্প স্থাপনে উপজেলা সেচ কমিটির কাছে আবেদন করেন।

সেচ কমিটি তদন্তের পর রশিদ মিয়াকে গভীর নলকূপ স্থাপনে অনুমতি প্রদান করে। ওই ঘটনা মিজানুর রহমান জানতে পেরে অল্প দূরত্বে ২টি গভীর নলকূপ পরিচালনা সম্ভবপর নয় মর্মে রশিদ মিয়ার অনুমোদন বাতিল চেয়ে সেচ কমিটির কাছে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেচ কমিটি রশিদ মিয়ার গভীর নলকূপ স্থাপনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে।

কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এই ঘটনার সুরাহা না হওয়ায় উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন রশিদ মিয়া। মহামান্য হাইকোর্ট (পিটিশন নং-৪৩২১) এর মারফত ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রশিদ মিয়ার সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগের নির্দেশ প্রদান করেন।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হয়। রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম এ বিষয়ে পুলিশী সহায়তা চেয়ে ৮ এপ্রিল অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১১ মে বুধবার এসআই সুপদের নেতৃত্বে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মিজান মাষ্টারের পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনরা বাধা দেয়।

একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সাথে ধাক্কাধাক্কি, ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দুই নারী পুলিশ সদস্য গোলেনুর ও জান্নাতুল আহত হন।এসময় পুলিশ সদস্যরা লাঠি চার্জ করলে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বাধে।

সংঘর্ষে নায়েক ফারুক উজ জামান, কনস্টেবল তারেক, কামরুল, আরিফুলসহ ছয় পুলিশ এবং অপর পক্ষের ১২ থেকে ১৫ জন আহত হন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সংঘর্ষের পর পুলিশ ধল্লাকান্দী গ্রামের মেহের উদ্দিনের ছেলে ও শানেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মাষ্টার (৩৬), তার স্ত্রী বিজলী (৩২), কন্যা মীম আক্তার (১৬), বোন বড় পাহাড়পুর গ্রামের মোনাজ উদ্দিনের স্ত্রী মিরা বেগম (৪০), অপর বোন প্রথমডাংগা গ্রামের লালমিয়ার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৫) ও নিকট আত্মীয় ধল্লাকান্দী গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের স্ত্রী রুপিয়া বেগম (৬০) কে বুধবার রাতে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এ প্রসঙ্গে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ পালনে পল্লীবিদ্যুতের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ঘটে। মিজান মাষ্টার ও তার পরিবারের লোকজন হাইকোর্টের আদেশ পালনে বাধা প্রদান করে পুলিশের উপর মারমুখী হয়ে উঠে।

এ প্রসঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান বলেন, ১০ কার্যদিবসের মধ্যে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ পালনে ওই সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হই।