Home খবর খেলাধূলা পিএসজির ড্রেসিংরুমে নেইমার-এমবাপ্পের হাতাহাতি

পিএসজির ড্রেসিংরুমে নেইমার-এমবাপ্পের হাতাহাতি

পিএসজির ড্রেসিংরুমে নেইমার-এমবাপ্পের হাতাহাতি
পিএসজির ড্রেসিংরুমে নেইমার-এমবাপ্পের হাতাহাতি

হঠাৎ উত্তপ্ত পিএসজি শিবির। আগের জের টেনে নতুন মৌসুমের শুরুতেই বড় ঝামেলায় পড়ে গেল ক্লাবটি। দলের মধ্যে চলছে চরম দ্বন্দ্ব। তাতে স্কোয়াডে ভাগাভাগি হওয়ারও আশঙ্কাও রয়েছে। যার শুরুটা মঁপেলিয়ের ম্যাচ দিয়ে। ওই ম্যাচে পেনাল্টি শুট নেওয়া নিয়েই নেইমার ও এমবাপ্পের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। যার রেশ ড্রেসিংরুমেও ছড়িয়ে পড়ে।

ইংল্যান্ডের খেলাধুলা বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘স্পোর্তবাইবেল’ জানিয়েছে, ওইদিন মঁপেলিয়ের ম্যাচ শেষ করে সবাই যখন ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করে, তখনই হট্টগোল শুরু হয়। নেইমার ও এমবাপ্পে উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়ে যায়।

যদিও সেটা খারাপ পর্যায়ে যাওয়ার আগে সতীর্থরা তাঁদের শান্ত করেন। এর পর থেকে কেউ কারও মুখ দেখছেন না। ফরাসি গণমাধ্যমগুলো বলছে, ড্রেসিংরুমে দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়, তবে হাতাহাতির উপক্রম হওয়ার আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন সতীর্থরা। তবে কয়েক দফা দু’জনই চেঁচিয়ে কথা বলেন এবং মাঠের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একে অপরকে প্রশ্ন করেন।

এখানেই শেষ নয়, ওইদিন মাঠে মেসিকে ধাক্কা দিয়েও না দেখার ভান করেছিলেন এমবাপ্পে। যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়। মঁপেলিয়ে ম্যাচেরই দৃশ্য সেটা, নেইমার পেনাল্টি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, খেলোয়াড়রা যে যাঁর মতো পেছনে দাঁড়িয়ে, তখনই একপাশ থেকে এমবাপ্পে ক্ষিপ্রগতিতে এসে মেসির পেশির সঙ্গে ধাক্কা মেরে সামনে এগিয়ে যান। মেসি মুখ ফিরিয়ে অবাক চোখে সেটি তাকিয়ে দেখেন। হয়তো তিনি ভেবেছিলেন, এমবাপ্পে সরি বা কিছু একটা বলবেন। কিন্তু এমবাপ্পেকে হনহনিয়ে হেঁটে যেতে দেখে মেসির মনেও দাগ কাটে। এ নিয়েও চলছে তুমুল আলোচনা।

এদিকে পিএসজির সুখের ঘরে এমন আগুন নেভাতে ঘুম নেই নতুন কোচ গালতিয়েরের। জরুরি মিটিং ডেকেছেন তিনি। তবে সেই মিটিংয়ে কেবল নেইমার ও এমবাপ্পেই থাকবেন। শোনা যাচ্ছে, স্পোর্টিং ডিরেক্টর লুইস ক্যাম্পোসও ছিলেন সেই মিটিংয়ে। ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মিটিংয়ে ফলপ্রসূ আলোচনাই হয়েছে। কোচ ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর দুই তারকাকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বুঝিয়েছেন। তার আগে অবশ্য সার্জিও রামোসও দু’জনকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। যেমনটা বলছে ফরাসি দৈনিক ‘এল ইকুইপে’।

ফ্রান্সের আরও কয়েকটি গণমাধ্যম বলছে, সমস্যাটা অনেক পুরোনো। তবে সেটা দিনকে দিন আরও তীব্র হচ্ছে। গত মৌসুমে যখন মেসি পিএসজিতে এসেছিল। তখন থেকেই এমবাপ্পের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। মেসি-নেইমার দু’জন দু’জনকে ভালোভাবেই চেনেন। এক সময় ন্যু ক্যাম্প মাতিয়েছেন। তা ছাড়া লাতিনের গি তে থাকায় দেশের হয়ে মাঠে নামলেও দেখা হয় তাঁদের। সেজন্য মেসি আসার পর নেইমার এমবাপ্পেকে রেখে মেসিকে নাকি বাড়তি সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

যেটা এমবাপ্পের ভালো লাগছে না। সেজন্য রিয়াল মাদ্রিদে যেতেও চেয়েছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি। তবে না যাওয়ার পেছনে বড় একটি কারণ ছিল, এমবাপ্পেকে সুপ্রিম পাওয়ার দেওয়া। মাঠে চাইলেই গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এই ফরাসি তারকা। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দিক থেকেও এমবাপ্পেকে বাড়তি এক্সেস দিয়ে রেখেছে খোদ পিএসজি। আর তিনিও সেটার ব্যবহার করতে চাচ্ছেন পদে পদে। যার ফলও আসছে উল্টো, পিএসজির বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

Exit mobile version