পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম জানা যাবে সোমবার

153
সোমবার পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য অধিবেশন বসছে দেশটির জাতীয় পরিষদে।
সোমবার পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য অধিবেশন বসছে দেশটির জাতীয় পরিষদে।

বহু নাটকীয়তার পর অবশেষে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে ইমরান খানকে। পাকিস্তানের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী এভাবে ক্ষমতাচ্যুত হলেন। ইমরান খানের জায়গায় পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে সোমবার। এদিন পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য অধিবেশন বসছে দেশটির জাতীয় পরিষদে।

একাধিক নাম শোনা যাচ্ছে পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীত্ব পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বিরোধী দলের নেতা ও পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) সভাপতি শাহবাজ শরীফ। তিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ছোট ভাই।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় রোববার দুপুর পর্যন্ত। এদিনই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হবে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে অধিবেশন শুরুর মধ্য দিয়ে শুরু হবে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া। পার্লামেন্টের সদস্যরা বৈঠকে বসবেন সোমবার দুপুরে। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবেন তারা।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগ তুলে দেশটির বিরোধী দলগুলো অনাস্থা প্রস্তাব আনে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে। এতে ইমরান খানের বিরুদ্ধে ১৭৪টি ভোট পড়ে। ৩৪২ আসনের জাতীয় পরিষদের ১৭২ ভোট পেলেই প্রস্তাবটি পাস হয়ে যেত। সেখানে আরও দুটি ভোট বেশি পড়ে। এভাবেই ইমরানকে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পথ সুগম করে দেশটির সব বিরোধীদল একজোট হয়ে। পাকিস্তানের ইতিহাসে এমন ঘটনা এবারই প্রথম।

কিন্তু সেই অনাস্থা প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার। তিনি গত ৩ এপ্রিল অনাস্থা প্রস্তাবটি খারিজ করে দেন। একই দিন ইমরান খানের সুপারিশে জাতীয় পরিষদও ভেঙে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে উপনীত হয় পাকিস্তান।

চলমান ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নোটিশ প্রদান করেন। পরপর ৫ দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ ও জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক বলে রায় দেন সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি শনিবার, ৯ এপ্রিল অনাস্থা প্রস্তাবের নিষ্পত্তির নির্দেশও প্রদান করা হয়।