পরকীয়ায় আসক্ত স্ত্রী চেনার উপায়

380
আপনার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে উদাসীনতা দেখালে বুঝতে হবে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। স্ত্রী যদি আপনার সঙ্গে যৌনসম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন তাহলে আপনি এটি পরকীয়ার নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে ধরে নিতে পারেন।
আপনার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে উদাসীনতা দেখালে বুঝতে হবে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। স্ত্রী যদি আপনার সঙ্গে যৌনসম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন তাহলে আপনি এটি পরকীয়ার নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে ধরে নিতে পারেন।

পরকীয়া বর্তমান সমাজের এক ভয়ংকর ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। নাপা সিরাপ কান্ড থেকে শুরু করে ইদানীং হরহামেশাই পরকীয়ার কারণে ভয়ংকর নানা ঘটনার খবর শিরোনাম হচ্ছে পত্রিকার পাতায়। পরকীয়ার মতো জঘন্য পাপে লিপ্ত মা-বাবার নৃশংসতার শিকার হচ্ছে অনেক সন্তান। এমনকি পরকীয়ার কারণে নিজের সন্তানকে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে দেশের মাটিতে।

পরকীয়ায় আসক্ত হতে পারেন নারী-পুরুষ উভয়ই। একজন পুরুষ কীভাবে বুঝবেন তার স্ত্রী পরকীয়া প্রেমে আসক্ত কিনা তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা চালানো হয়েছে।

গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, প্রথমে লক্ষ্য করুন আপনার স্ত্রী মোবাইল ফোনে কোনো কল আসলে আপনার সামনে তা ধরতে অস্বস্তি অনুভব করছেন কিনা। সাধারণত পরকীয়ায় আসক্ত স্ত্রী আড়ালে গিয়ে ফোন ধরে থাকেন। এছাড়া প্রায় সময়ই সে তার মেসেজ এবং মোবাইল ফোনের কল লিস্ট মুছে ফেলেন।

এছাড়া আপনার স্ত্রী পরকীয়ায় আসক্ত হলে আপনার সাথে যে কোনো কথা বলতে গেলেই বিরক্তবোধ করবেন। আপনি বাড়ির বাইরে থাকলে আগের মতো আপনাকে ফোন করবেন না। বিয়ের পরপর আপনার বিভিন্ন বিষয়ে সব সময় খেয়াল রাখলেও পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়লে আপনার প্রতি তার কেয়ারিং ভাবটা আর থাকবে না।

সারাদিন আপনাকে ফোন না করলেও দিনে অন্তত একবার হলেও ফোন করে জানতে চাইবে, আপনি কখন বাসায় ফিরবেন।

পরকীয়ায় আসক্ত স্ত্রীর অন্যতম লক্ষণ হলো তিনি ফোন বা ইন্টারনেটে মাত্রাতিরিক্তভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন। বাসায় কিংবা একসঙ্গে ঘুরতে গেলে যদি আপনার স্ত্রী ফোন নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন কিংবা ইন্টারনেট ব্রাউজিং করেন তাহলে তা নিশ্চিতভাবে অন্য একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে।

এছাড়া দিনের বেশিরভাগ সময়ই যদি তাকে ফোনালাপে ব্যস্ত পাওয়া যায় তাহলেও বিষয়টি পরকীয়ার লক্ষণ বলে ধরে নিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, কাজের প্রয়োজনে ফোনালাপ এবং কারোর সাথে প্রেমময় ফোনালাপের মধ্যে পার্থক্য আছে। এই পার্থক্য বোঝার মতো ক্ষমতা আপনার থাকতে হবে। শুধু ফোন নয়, ফেসবুক কিংবা অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আসক্তিও পরকীয়ার লক্ষণ।

আপনার স্ত্রী যদি আপনার ও পরিবারকে আগের তুলনায় কম সময় দেন তাহলে এটিও পরকীয়ার লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। খুব ভালো করে আপনার সঙ্গীর প্রতিদিনকার কাজকর্ম লক্ষ্য করুন। যদি বুঝতে পারেন যে আগের চাইতে কম সময় পাচ্ছেন তাহলে বোঝার চেষ্টা করুন সেই বাড়তি সময়টা তিনি কীভাবে ব্যয় করছেন।

আপনি তাকে সময় দেওয়ার কথা বলুন, একসঙ্গে বসে টিভি দেখার কথা বলুন, একসঙ্গে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন, আত্মীয় স্বজনদের ও পারিবারিক বন্ধুদের সময় দেওয়ার কথা বলুন। তিনি যদি আপনাকে অজুহাত দেখিয়ে ‘না’ বলেন তাহলে জানার চেষ্টা করুন অজুহাতটি সত্যি কিনা।

আপনার স্ত্রী যদি পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন বিনা কারণে তাহলে ধরে নিতে পারেন তিনি পরকীয়ায় আসক্ত। অবশ্য তিনি নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সেটা আলাদা বিষয়। এই পার্থক্যটা আপনাকেই বুঝতে হবে। তবে একটু সময় নিয়ে লক্ষ্য করুন। এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে কোনো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

আপনার স্ত্রীর মুখে যদি নতুন কোনো একটি নাম ঘন ঘন শুনতে পান তবে সেটাও পরকীয়ার একটা ইঙ্গিত হতে পারে। সঙ্গীর যে বন্ধুটির কথা আগে কখনো শোনেননি এমন কারও কথা ঘনঘন শুনলে তাকে জিজ্ঞেস করুন এবং তার মুখের ভাব লক্ষ্য করুন। যদি তিনি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান কিংবা তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায় তবে বিষয়টি অবশ্যই দুশ্চিন্তার।

অকারণে রেগে যাওয়া পরকীয়ার আরেকটি লক্ষণ। খেয়াল করে দেখুন, আগে যে বিষয়গুলো আপনার স্ত্রীর রাগের উদ্রেক করতো না সেসব বিষয়ে তিনি কি রেগে যাচ্ছেন? কিংবা কথায় কথায় আপনাদের দাম্পত্য জীবনকে অভিশাপ হিসেবে অভিহিত করছেন? তার এসব কথার কোন যুক্তি আছে কিনা এইসব ব্যাপারগুলো লক্ষ্য করুন। বিনা কারণে অযৌক্তিক রাগ করা, কিংবা সবসময় খিটখিট করা পরকীয়ার অন্যতম লক্ষণ।

আপনার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে উদাসীনতা দেখালে বুঝতে হবে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। স্ত্রী যদি আপনার সঙ্গে যৌনসম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন তাহলে আপনি এটি পরকীয়ার নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে ধরে নিতে পারেন। যিনি অন্যের সাথে সময় কাটিয়ে আপনার প্রতি উদাসীন তার মুখের অভিব্যক্তিই আপনাকে সব বলে দেবে। আপনার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী না হওয়ার মানে হলো তার যৌন চাহিদা পূরণ হচ্ছে অন্য কারও মাধ্যমে। এছাড়া অভ্যাসবশত যৌন সম্পর্ক করছেন নাকি শুধুমাত্র আপনাকে খুশি করতে যৌন সম্পর্ক করছেন টোও ভালো করে লক্ষ্য করুন।

রোজকার রুটিন সম্পর্কে হঠাৎ অতিরিক্ত নজরদারিও পরকীয়ার অন্যতম লক্ষণ। যদি দেখেন আপনি কখন বাড়ি ফিরবেন কিংবা কখন কোথায় যাবেন এই ধরনের প্রশ্ন করছেন তাহলে সতর্ক হোন। আপনার চোখ এড়িয়ে নিরাপদে সম্পর্ক চালিয়ে যেতেই তার এত জিজ্ঞাসা।

হঠাৎ করেই নিজের সৌন্দর্য নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন হয়ে ওঠাও পরকীয়ার লক্ষণ হিসেবে ধরতে হবে। আপনার স্ত্রী যদি হঠাৎ নিজের ত্বক, সাজগোজ, শারীরিক গঠন কিংবা পোশাক নিয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে শুরু করেন তাহলে তা পরকীয়ার একটি লক্ষণ হিসেবে ধরে নিতে পারেন।