Home খবর জাতীয় নিউ মার্কেটে সংঘর্ষ : নাহিদের মতোই না ফেরার দেশে মুরসালিন (ভিডিও)

নিউ মার্কেটে সংঘর্ষ : নাহিদের মতোই না ফেরার দেশে মুরসালিন (ভিডিও)

রাজধানীর নিউ মার্কেটে ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুরুতর আহত কুরিয়ার সার্ভিস কর্মী নাহিদ (১৮) হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত চলে যান না ফেরার দেশে। এবার তার মতোই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন একই সংঘর্ষে আহত দোকান কর্মচারী মো. মুরসালিন (২৪)।

বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুরসালিন। এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হলো। সংঘর্ষে আহত আরও দুজনের চিকিৎসা চলছে। তারা হলেন মো. কানন চৌধুরী (২০) ও মো. ইয়াসিন (১৮)।

গত মঙ্গলবার নিউ মার্কেটে ছাত্র-ব্যবসায়ী সংঘর্ষে আহত হন মুরসালিন। নুরজাহান মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ইটের আঘাতে গুরুতর আহত মুরসালিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিউ সুপার মার্কেটে একটি প্যান্টের দোকানের কর্মচারী ছিলেন মুরসালিন। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুর এলাকায়। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দুই সন্তানের জনক ছিলেন মুরসালিন। তার দুই সন্তানের মধ্যে আমির হামজার বয়স মাত্র ৪ বছর, আর হুমাইয়া ইসলাম লামহার বয়স ৭। নিহত মুরসালিনের স্ত্রী অনি জানান, ৯ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন মুরসালিন। সেই টাকা দিয়েই চলত সংসার।

এর আগে মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় নাহিদ (১৮) নামের একজন কুরিয়ার সার্ভিস কর্মী ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সেদিন কামরাঙ্গীরচরে বাসা থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন নাহিদ। এ সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিহত হন তিনি।

সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা হলেন ঢাকা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের নাসিম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের লিটন ও পদার্থবিদ্যা বিভাগের আবদুল্লাহ আল মাসউদ। চিহ্নিত তিনজনই ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী। এদিকে সংঘর্ষের কারণে দুই দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে নিউ মার্কেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

Exit mobile version