Home খবর আইন-অপরাধ নাপা সিরা‌প নাটক সাজানো মায়ের পরকীয়া প্রেমিক গ্রেপ্তার

নাপা সিরা‌প নাটক সাজানো মায়ের পরকীয়া প্রেমিক গ্রেপ্তার

পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ের পথ সুগম করতে আশুগঞ্জে নিজের অবুঝ দুই সন্তানকে হত্যা করে সারাদেশে হইচই ফেলে দেয় ঘাতক মা রিমা বেগম। পরকীয়া প্রেমিক তাকে বিষ মাখা‌নো মিষ্টি পাঠায়। সেই মি‌ষ্টি খাইয়ে নিজের দুই সন্তানকে হত্যা করে রিমা। এরপর নাপা সিরা‌প খেয়ে শিশুমৃত্যুর নাটক সাজায় সে। অবশেষে রিমার পরকীয়া প্রেমিক সফিউল্লাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পু‌লিশ।

ঘটনার ১৮ দিন পর সোমবার, ২৮ মার্চ বিকেল ৪:৪৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর আব্দুল্লাপুর এলাকা থেকে সফিউল্লাকে গ্রেপ্তার করে আশুগঞ্জ থানা পু‌লিশ।

এই স‌ফিউল্লাই সিলেটে কর্মরত ইটভাটা শ্রমিক শারীরিক প্রতিবন্ধী ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী রিমা বেগমকে বিয়ে করার শর্ত হিসেবে দুই শিশু‌কে পৃ‌থিবী থেকে চিরতরে স‌রিয়ে দিতে বলে‌ছিল। শুধু তাই নয়, নর‌পিশাচ স‌ফিউল্লার পাঠানো বিষ মাখানো মি‌ষ্টি খাই‌য়েই নিজের দুই সন্তানকে হত্যার ম‌তো জঘন্য কাজ করেছে পরকীয়ায় অন্ধ মা রিমা বেগম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের দুই শিশু ইয়াছিন খান (৭) ও মোরসালিন খানকে (৫) হত্যার ঘটনা ঘটে চল‌তি মার্চ মাসের ১০ তা‌রি‌খ রাতে। পরকীয়া প্রেমিক সফিউল্লার পাঠানো বিষ মাখানো মিষ্টি খাইয়ে দুই সন্তানকে হত্যা করে রিমা বেগম। এরপর নাপা সিরাপ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয় বলে নাটক সাজা‌য়।

নাপা সিরাপ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হলেও রিমাকে গ্রেপ্তারের পর হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক রিমা বেগম হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। সে জানায়, মিষ্টিতে বিষ মিশিয়ে তার কাছে পাঠায় সফিউল্লা। আগে থেকেই বিষ মাখানো সেই মিষ্টি খাইয়ে নিজের দুই সন্তানকে হত্যার করে সে।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে পু‌লিশ জানায়, নিহত দুই শিশুর বাবা ইসমাইল হোসেন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তারপরও তিনি সিলেটের এক‌টি ইটভাটায় কাজ করেন। ইসমাইল ও রিমার এক যুগের সংসার।

প্রতিবন্ধী স্বামীর অভাবের সংসারে আর্থিক অনটনের কারণে চালকলে কাজ নেয় রিমা। একই চালকলে কাজ করার সুবাদে সফিউল্লার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা বিয়েরও পরিকল্পনা করে। তবে সফিউল্লা বিয়ের পূর্বশর্ত হিসেবে রিমাকে বলে, দুই সন্তানকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন বিকেলে রিমাকে পাঁচটি মিষ্টি পাঠায় সফিউল্লা। সে রিমাকে বলে, শুধু মিষ্টিগুলো খাওয়ালেই হবে, আর কিছু করতে হবে না। শফিউল্লার কথা অনুযায়ী রিমা নিজের দুই সন্তানকে বিষ মেশানো মিষ্টি খাওয়ায়। সেদিন রিমার সঙ্গে সফিউল্লা অন্তত ১৫ বার মোবাইল ফোনে কথা বলে।

আগে থেকেই শিশু দুটির শরীরে জ্বর ছিল। তাই রিমা নাটক সাজাতে তার শাশুড়িকে ফার্মেসি থেকে নাপা সিরাপ আনতে বলে। এলাকার মাঈন উদ্দিনের ফার্মেসি থেকে নাপা সিরাপ আনার পর সেই সিরাপ দুই সন্তানকেই এক চামচ করে খাওয়ায়।

পরে তারা বমি করতে শুরু করলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের দুজনকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৯টার দিকে ইয়াসিন মারা যায়। পরে রাত ১০টার দিকে মোরসালিনও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

নাপা সিরাপ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর রটানোর পর পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাপা সিরাপ বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। পরে মাঈন উদ্দিনের ফার্মেসি থেকে জব্দ করা হয় সব সিরাপ। পরীক্ষার পর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানায়, নাপা সিরাপের গুণগত মানে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।

Exit mobile version