নরসিংদীতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে কৃষকদের ভাগ্য বদল

নরসিংদীতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে কৃষকদের ভাগ্য বদল
নরসিংদীতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে কৃষকদের ভাগ্য বদল

ইলিয়াছ হায়দার : নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নরসিংদীর ছয় উপজেলায় ১০৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদী সদর উপজেলায় পাঁচ হেক্টর, শিবপুরে ১৫ হেক্টর, পলাশে ২০ হেক্টর, বেলাবতে ২৫ হেক্টর, মনোহরদীতে ১০ হেক্টর এবং রায়পুরাতে ৩০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।

নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুন জানিয়েছেন,  অধিক পরিমাণ সূর্যমুখী ফুল চাষ করে  ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।  স্বল্প পরিমাণ সার প্রয়োগ, কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়।

স্থানীয় মিলের মাধ্যমে তেল আহরণ করে সরিষার তেলের মত ব্যবহার করা যায়। অপরদিকে সূর্যমুখীর গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, এ বছর তিনি সাত একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। সবগুলো গাছেই ফুল ধরেছে। ফলনও ভাল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সূর্যমুখী তেলের তুলনা নেই।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. সাইদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে রান্নায় সয়াবিন তেল ব্যবহারে মানুষ অভ্যস্ত। কিন্তু বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখী ফুলের তেল অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত।নরসিংদীর নাগরিয়াকান্দি ব্রিজের পাশে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে ভাগ্য বদল হয়েছে। প্রতিদিন এখানে দর্শনার্থী দেখতে আসেন সূর্যমুখী ফুল।

ফুল দেখতে গেলেও ছবি তুললে প্রতি জনের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে  টাকা করে। প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ৯০০ লোক এখানে ছবি তুলতে ও সূর্যমুখী ফুল দেখতে আসেন। এতে করে কৃষকের বাড়তি আয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জালাল উদ্দিন।দর্শনার্থী শিমু বলেন, নদীর পাশে এবং খোলামেলা জায়গা বিকেলবেলা সূর্যমুখী ফুল দেখতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছি সবাই ঘুরে ঘুরে দেখে মনের প্রশান্তি দূর করেছি।সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার সূর্যমুখী ফুলের চাষ আরো বেড়েছে। বাড়তি আয় হওয়ার কারণে কৃষকেরাও সূর্যমুখী ফুলের চাষ করার আগ্রহ দেখাচ্ছে।