নদীর পার থেকে বস্তাবন্দী কিশোরীকে উদ্ধারের পর যা ঘটলো…

492
টাঙন নদীর ব্রিজের নিচে একটি বস্তার ভেতরে একটি মেয়েসহ পড়ে থাকতে দেখে আমাকে একজন মোবাইলে ফোন করে জানায়। আমরা প্রথম দেখায় মনে করেছিলাম, মারা গেছে। পরে ছবি তোলার জন্য একটু কাছে গিয়ে দেখি বস্তাটি নড়ে উঠলো। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের বস্তাটি খুলতে বললাম। বস্তা খোলার পর দেখা গেলো মেয়েটি বেঁচে আছে।
টাঙন নদীর ব্রিজের নিচে একটি বস্তার ভেতরে একটি মেয়েসহ পড়ে থাকতে দেখে আমাকে একজন মোবাইলে ফোন করে জানায়। আমরা প্রথম দেখায় মনে করেছিলাম, মারা গেছে। পরে ছবি তোলার জন্য একটু কাছে গিয়ে দেখি বস্তাটি নড়ে উঠলো। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের বস্তাটি খুলতে বললাম। বস্তা খোলার পর দেখা গেলো মেয়েটি বেঁচে আছে।

আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : কিশোরী মাহফুজা খাতুন। বয়স মাত্র ১৫ বছর। ঠাকুরগাঁও শহরের একটি মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগের ছাত্রী। মেয়েটির বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু টেকেনি সেই বিয়ে। সম্প্রতি সাবেক স্বামীর ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে মাহফুজা। গভীর রাতে তাকে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে বের করে নিয়ে এসে সদলবলে নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর। পরে বস্তাবন্দী করে টাঙন নদীর পাশে ফেলে দেয়া হয়। পরদিন সকালে বস্তাবন্দী লাশ ভেবে স্থানীয়রা উদ্ধার করতে গিয়ে দেখেন বেঁচে আছে মাহফুজা। বর্তমানে সে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় পৌরশহরের টাঙন নদীর পাড় থেকে মাহফুজাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাহফুজা খাতুন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের ক্বারী মরহুম মোস্তফা কামালের মেয়ে। মাহফুজা ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের খাতুনে জান্নাত কামরুন্নেছা কওমী মহিলা মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের ছাত্রী।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী টাঙন নদী সংলগ্ন খালপাড়া এলাকার বাসিন্দা জয় মহন্ত অলক বলেন, টাঙন নদীর ব্রিজের নিচে একটি বস্তার ভেতরে একটি মেয়েসহ পড়ে থাকতে দেখে আমাকে একজন মোবাইলে ফোন করে জানায়। আমরা প্রথম দেখায় মনে করেছিলাম, মারা গেছে। পরে ছবি তোলার জন্য একটু কাছে গিয়ে দেখি বস্তাটি নড়ে উঠলো। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের বস্তাটি খুলতে বললাম। বস্তা খোলার পর দেখা গেলো মেয়েটি বেঁচে আছে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

মোবাইল ফোনে মাহফুজা খাতুনের বড় বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বোন টাঙন নদীর পাশে একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। ঘটনা কী ঘটেছে জানি না। আমরা ঠাকুরগাঁও যাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাতুনে জান্নাত কামরুন্নেছা কওমী মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত আলী বলেন, স্বাভাবিক নিয়মের মতো রাত ১১টায় সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। ফজরের সময় তাকে (মাহফুজা) রুমে দেখতে না পেয়ে সহপাঠীরা তাকে খোঁজাখুঁজি করে। তার অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়। তারপর পাশেই টাঙন নদীর পাশে বস্তাবন্দী অবস্থায় তাকে পাওয়া গেলে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঠাকুরগাঁও সদর থানা সূত্রে জানা যায়, মাহফুজা শহরের একটি মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করে। মেয়েটির সাবেক স্বামী তার দলবল নিয়ে রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার দিকে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে বের করে নিয়ে আসে। পরে নির্যাতন করে তাকে বস্তাবন্দী করে টাঙন নদীতে ফেলে রাখে। সকালে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।