নতুন প্রধানমন্ত্রী পেলো শ্রীলঙ্কা (ভিডিও)

96

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাঁচ-পাঁচবার দায়িত্বপালনকারী রনিল বিক্রমাসিংহে আবার ক্ষমতা পেলেন। শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) বর্ষীয়ান এই নেতা।

বৃহস্পতিবার, ১২ মে রনিল বিক্রমাসিংহেকে শপথ বাক্য পাঠ করান শ্রীলঙ্কার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সদ্যবিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মহিন্দ রাজাপাকসের ছোট ভাই গোটাবায়া রাজাপাকসে।

সরকারবিরোধীদের ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার মুখে গত সোমবার পদত্যাগ করেন মহিন্দা রাজাপাকসে। তার পরিবর্তেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তার স্থলাভিষিক্ত হলেন রনিল বিক্রমাসিংহে।

লাগামহীন অর্থনৈতিক আর রাজনৈতিক সংকটে ন্যুব্জ শ্রীলঙ্কার ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ জনতাকে রনিল বিক্রমাসিংহে সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে পারেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের অনুরোধে তার বড় ভাই মহিন্দা রাজপাকসে প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরও বিক্ষোভ ও সহিংসতা বাড়তে থাকে দেশটিতে। তীব্র বিক্ষোভের মুখে শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বো ত্যাগ করতে বাধ্য হন সদ্য প্রধানমন্ত্রীত্ব হারানো মহিন্দা রাজপাকসে। তার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, তিনি জীবন বাঁচাতে ত্রিঙ্কোমালির নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

মঙ্গলবার, ১০ মে ভোররাতে মহিন্দা রাজপাকসের বাসভবনে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী একযোগে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রক্ষা করতে সেখান তাকে সরিয়ে নেয় সেনাবাহিনী। একইদিন সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহিংসতাকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয় শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সরকারি সম্পদ লুট কিংবা মানবজীবনের জন্য হানিকর কিছু করতে দেখামাত্রই গুলি করতে নির্দেশ দেওয়া হয় ওই বিবৃতিতে। শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে জরুরি ক্ষমতা তুলে দেওয়ায় তারা যেকোনো লোককে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তারও করতে পারবে।

এর আগে সোমবার বিক্ষোভে একজন সংসদ সদস্যের মৃত্যু, আরেকজনের ওপর হামলা, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীসহ বহু নেতার ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। ওইদিন সহিংসতায় ৭ জন নিহত ও ২০০ জন আহত হন। ঘটনার পরদিন সহিংসতাকারীদের দেখামাত্রই গুলি করার মতো কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।