দেশে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপ

104
দেশে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপ
দেশে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপ

বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টিকারী অসংক্রামক রোগ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। দেশের প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (২১%) উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন যাদের অর্ধেকই নারী (৫১%)। মজার বিষয় হলো, দুই-তৃতীয়াংশ পুরুষ (৬৭%) জানেই না যে তাদের উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।

উচ্চ রক্তচাপ শরীরের বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে নীরবে-নিঃশব্দে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে গণসচেতনতা এবং চিকিৎসা সেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিকে রক্তচাপ পরীক্ষা ও উচ্চ রক্তচাপের ঔষধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানারস কনফরেন্স রুমে ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর হাইপারটেনশন অ্যান্ড হার্ট হেলথ শীর্ষক ২ দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান। আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহায়তায় কর্মশালার আয়োজন করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) । কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেড়ে গেলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ ১২০/৮০ মি.মি. পারদচাপ। রক্তচাপ ১৪০/৯০ মি.মি. পারদচাপ বা ততোধিক হলে বুঝতে হবে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। তবে বয়স ভেদে রক্তচাপ কম বা বেশি হতে পারে।

বেশিরভাগ সময় উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট কোন লক্ষণ ও উপসর্গ থাকে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সকালের দিকে মাথাব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, হৃৎপিণ্ডের অনিয়মিত ছন্দ, দৃষ্টিতে পরিবর্তন ও কানে গুঞ্জন অনুভূতির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হার্ট, কিডনিসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অঙ্গে জটিলতা তৈরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা করা না হলে বুক ব্যথা থেকে শুরু করে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেল, অনিয়মিত হার্ট বিটসহ স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।

কর্মশালায় জানানো হয়, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের মধ্যে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন প্রতি ৭ জনে ১ জনেরও কম। দেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান ৩টি কারণের একটি হলো উচ্চ রক্তচাপ। বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে প্রশিক্ষিত কর্মী আছে মাত্র ২৯ শতাংশ স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বেশ কিছু নীতি এবং কর্মপরিকল্পনা থাকলেও এ বিষয়ে দেশব্যাপী উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো কর্মসূচি নেই। সরকার বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণ করে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ২০২৫ সালের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রাদুর্ভাব ২৫ শতাংশ কমানোর জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তাই সঠিক নিয়মে উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা, চিকিৎসা সেবা গ্রহণ ও উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।

সব হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসা এবং ওষুধ প্রদান নিশ্চিত করতে এই খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। একইসাথে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করতে হবে। অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করা, ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, তামাক ও মদ্যপান পরিহার করা, অতিরিক্ত ওজন কমানো ও নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের কারণে মারা যান যা সব সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি।