দেশে করোনা প‌রি‌স্থি‌তি অবন‌তির আশঙ্কা, ছয়দফা সুপা‌রিশ

167
বাংলাদেশেও করোনা প‌রি‌স্থি‌তির অবন‌তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
বাংলাদেশেও করোনা প‌রি‌স্থি‌তির অবন‌তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

বাংলাদেশে করোনা প‌রি‌স্থি‌তি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জীবন-যাত্রা ও অর্থনৈ‌তিক কর্মকান্ডও প্রায় স্বাভা‌বিক। সামনেই ঈদ। মুস‌লিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে চলছে কেনাকাটার ধুম। গণপ‌রিবহনে বাড়ছে ঈদে ঘরমুখী মানু‌ষের ভিড়। অন‌্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশেও করোনা প‌রি‌স্থি‌তির অবন‌তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

দেশে করোনার বিস্তার ঠেকিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছয় দফা সুপারিশও করেছে কোভিড-১৯ পরামর্শক কমিটি।

সোমবার, ২৫ এ‌প্রিল এ সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উদ্বেগের কথা প্রকাশ করা হয়। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনলাইনে অনুষ্ঠিত কমিটির ৫৭তম সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশে করোনা সংক্রমণ বৃ‌দ্ধির কারণ ও দেশে সংক্রমণের হার ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণে রাখতে করণীয় সম্পর্কে কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত জানতে চায়।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভায় সব সদস্যের উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনা শেষে ছয়টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

প্রথমত, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার কম হলেও পার্শ্ববর্তী দেশ, এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের হার বাড়ছে। বিষয়‌টি উদ্বেগজনক। জাতীয় কারিগরি কমিটি আশঙ্কা করছে, এখন থেকেই সতর্ক না হলে দেশেও ক‌রোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হ‌বে। যথাযথভা‌বে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ কর‌তে হ‌বে। পাশাপা‌শি সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়া‌নোর জন‌্য প্রচার-প্রচারণা বৃ‌দ্ধি কর‌তে হ‌বে।

দ্বিতীয়ত, যেসব দেশে সংক্রমণের হার বেশি সে দেশগুলো থেকে মানু‌ষের বাংলাদেশে প্রবে‌শের ক্ষেত্রে টিকা নেওয়া থাকলেও কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট আ‌ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হ‌বে। সব বন্দরে জনগণের প্রবেশ পথে স্ক্রিনিং জোরদার কর‌তে হ‌বে।

তৃতীয়ত, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপল‌ক্ষে মানুষের কেনাকাটা ও ঘরমুখী যাতায়াতের সময় মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হ‌বে। এছাড়া তারাবির নামাজ ও ঈদ জামাতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হ‌বে।

চতুর্থত, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করতে এ বিষয়ক প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দি‌তে হ‌বে।

পঞ্চমত, কোভিড নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজন করে সবাইকে করোনা নিয়ন্ত্রণে সতর্কাবস্থানে থাকার আহ্বান জানা‌তে হ‌বে।

ষষ্ঠত, জিনোম সিকোয়েন্সিং ও সার্ভেলিয়েন্স জোরদার করতে হ‌বে।