দুই প্রেমিকাকে বিয়ে করা রনির চাকরি দরকার (ভিডিও)

160

রাতের আঁধারে গোপন অভিসারে ধরা খেয়ে একসঙ্গে দুই প্রেমিকাকে বিয়ে করে ঘরে তুলতে বাধ্য হয়ে দেশজুড়ে রাতারাতি পরিচিতি পেয়ে গেছেন পঞ্চগড়ের ২৫ বছর বয়সী যুবক রোহিনী চন্দ্র বর্মন রনি।

দুই প্রেমিকাকে একসঙ্গে বিয়ের ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ভাইরাল হয় ঘটনাটি। দুই নববধূকে দেখতে উৎসুক মানুষ ভিড় করেন রনির বাড়িতে।

এদিকে বিয়ের পর দুই বউ নিয়ে ভালোই কাটছে রনির সময়। তবে এখন পর্যন্ত উপার্জনক্ষম না হওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। এজন্য চাকরির প্রয়োজনের কথা জানিয়েছেন রনি নিজেই। এছাড়া বেকার ছেলেকে চাকরি দেওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন রনির বাবা।

একসঙ্গে দুই প্রেমিকাকে বিয়ে ও বিয়ে পরবর্তী সময়ে দুশ্চিন্তা নিয়ে রনির ভাষ্য, তারা (ইতি রানি ও মমতা রানি) দুজনই আমাকে ভালোবাসে। তাই দুজনকেই বিয়ে করেছি। এই বিয়েতে আমরা তিনজনই খুশি। কিন্তু দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে, আমি এখনও উপার্জন করতে শিখিনি। চাকরি খুঁজতে হবে।

অন্যদিকে রনির বাবা যামিনী চন্দ্র বর্মন বলেন, আমার ছেলের কোনো চাকরি নেই। সে বেকার। সবাই একটু সহযোগিতা করবেন যাতে আমার ছেলে চাকরি বা কিছু করে খেতে পারে।

রনির বাবা আরও বলেন, আমরা তিন পরিবার মিলে তাদের বিয়ে দিয়েছি। আমি আমার দুই বৌমাকে মেনে নিয়েছি। তাদের জন্য সবাই দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন।

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীদার এলাকার যামিনী চন্দ্র রায়ের ছেলে রনি। তিনি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে মেকানিক্যাল ট্রেডে ডিপ্লোমা করেছেন।

মা-বাবা, ভাই-বোনের সঙ্গে পরিবারে হঠাৎ করেই যুক্ত হয়েছে নতুন দুই বউ। রনির স্ত্রী ইতি রানি একই ইউনিয়নের গাঠিয়াপাড়া এলাকার গিরিশ চন্দ্রের মেয়ে। আরেক স্ত্রী মমতা রানি লক্ষীদ্বার গ্রামের টোনোকিশোর রায়ের মেয়ে।

প্রথমে ইতির সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়ান রনি। দীর্ঘদিন চুটিয়ে প্রেম করার পর একদিন তারা মন্দিরে গিয়ে গোপনে বিয়ের পর্ব সারেন। বিয়ের পর দুজনই বিষয়টি চেপে যান। কাউকে ঘুণাক্ষরেও টের পেতে দেননি বিয়ের কথা।

কথায় বলে, এক নারীতে মন ভরতে চায় না পুরুষের। প্রকৃতিপ্রদত্ত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বহুগামী সে। ভ্রমরের মতো সে শুধু ঘুরে বেড়াতে চায় এক ফুল থেকে আরেক ফুলে। রনিও যেন তার ব্যতিক্রম নয়।

প্রথম প্রেমিকা ইতিকে বিয়ের কিছুদিনের মাথায় নতুন প্রেমের জোয়ারে ভাসেন রনি। এবার রনির প্রেমিকার খাতায় ইতির জায়গায় নাম ওঠে মমতার। ইতিকে ঠকিয়ে মমতার সঙ্গে গোপন অভিসারে মেতে ওঠেন রনি।

কিন্তু কথায় বলে- চোরের দশদিন, গৃহস্থের একদিন। এক রাতে মমতার সঙ্গে গোপন অভিসারে মেতে উঠতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের হাতে ধরা পড়ে যান রনি। চলতি মাসের ১২ তারিখ রাতে মমতার সঙ্গে দেখা করতে গেলে দুজনকে একসঙ্গে দেখে ফেলেন মমতার পরিবারের সদস্যরা। পরে রনিকে সেখানেই আটকে রাখা হয়।

পরদিন ১৩ এপ্রিল জোর করে মমতার সঙ্গে রনির বিয়ে পড়িয়ে দেন মমতার পরিবারের সদস্যরা। বিয়ের পর রনি নিজের ঘরে ফিরে যান। আর মমতা তা বাবার বাড়িতেই থেকে যান।

এদিকে মমতা ও রনির বিয়ের খবর শুনে রনির প্রথম প্রেমিকা ও স্ত্রী ইতি রানি গাঠিয়াপাড়া থেকে লক্ষ্মীদ্বার গ্রামে রনির বাড়িতে চলে আসেন। স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে অনশন শুরু করেন। খবর পেয়ে আরেক স্ত্রী মমতাও যান রনির বাড়িতে।

অবশেষে বুধবার, ২০ এপ্রিল রাতে রনি, ইতি ও মমতার পরিবারের উপস্থিতিতে রনির বাড়িতে আবার বিয়ের আয়োজন করা হয়। সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটা করে এক বরের সঙ্গে দুই প্রেমিকাকে সাত পাকে বাঁধেন পুরোহিত।