দুই কিশোরীর ঘর বাঁধার স্বপ্নভঙ্গ : হাত কাটলেন একজন

498
টাঙ্গাইলের বাসাইলের এক কিশোরীকে ভালোবেসে তার টানে তার বাড়িতে ছুটে যাওয়া নোয়াখালীর সেই কিশোরী সম্প্রতি নিজের হাত কেটে রক্তাক্ত করেছেন।
দুই কিশোরীর ঘর বাঁধার স্বপ্নভঙ্গ : হাত কাটলেন একজন

ফেসবুকে পরিচয়, অতঃপর বন্ধুত্ব এবং আজীবন একসঙ্গে থাকতে চেয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় তোলেন নোয়াখালী ও টাঙ্গাইলের দুই কিশোরী। পরে অবশ্য পারিবারিক ও সামাজিক চাপে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের দুজনের ঘর বাঁধার স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় এবার নিজের হাত কেটে রক্তাক্ত করে খবরের শিরোনাম হলেন নোয়াখালীর সেই কিশোরী।

টাঙ্গাইলের বাসাইলের এক কিশোরীকে ভালোবেসে তার টানে তার বাড়িতে ছুটে যাওয়া নোয়াখালীর সেই কিশোরী সম্প্রতি নিজের হাত কেটে রক্তাক্ত করেছেন।

শুধু তাই নয়, তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তাকে মানসিক চিকিৎসা দেওয়া হবে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

মেয়ে হয়ে আরেকটি মেয়ের সঙ্গে আজীবন একসঙ্গে থাকতে চাওয়া, হাত কেটে রক্তাক্ত করা এবং অস্বাভাকিব আচরণ করা- সবকিছু মিলিয়ে নোয়াখালীর ওই কিশোরীকে নিয়ে সামাজিক চাপের মধ্যে দিন পার করতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মেয়ের জন্য প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নানা কটু কথা শুনতে হচ্ছে তাদের।

নোয়াখালীর ওই কিশোরীর মা জানান, গত বুধবার সকালে ভাত খায় তার মেয়ে। এরপর ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। দুপুরে স্নানঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর নিজের হাত নিজেই কেটে ফেলে। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, নোয়াখালী সদর ও টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দুই কিশোরীর ফেসবুকে পরিচয় হয় বছর দুয়েক আগে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

তারা ফেসবুক মেসেঞ্জারে আলাপচারিতার মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এক পর্যায়ে তাদের বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে রূপান্তরিত হয়।

গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় প্রেমের টানে নোয়াখালীর কিশোরী টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন। তখন তাকে বাসাইলের কিশোরী নিজেই টাঙ্গাইল শহরে গিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারা সংসার করার ইচ্ছের কথা প্রকাশ করেন।

ঘটনাটি প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে তোলপাড় ওঠে। ২২ মার্চ সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদে দুই পরিবারের অভিভাবকদের একত্রিত করা হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে যার যার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই কিশোরী।

এটাই প্রথম নয়, এর আগেও তারা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘর ছেড়ে বের হয়েছিলেন। সেসময় তারা প্রথমে ঢাকার সাভারে ও পরে সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে এক পরিচিতজনের বাসায় উঠেছিলেন। পরে অবশ্য যে যার বাড়িতে পরিবারের কাছে ফিরে যান।