‘দাফনের নয় মাস পর জীবিত হওয়া’ বৃদ্ধার পরিচয় মিলেছে (ভিডিও)

619

মৃত বাছিরন বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা কবর থেকে উঠে এসে নিজের ছেলের বাড়িতে উঠেছেন- এমন খবরে তোলপাড় ওঠে গাইবান্ধায়। পরে জানা যায়, ওই বৃদ্ধা আসলে বাছিরন বেওয়া নন। মৃত বাছিরন বেওয়ার সঙ্গে তার চেহারার মিল থাকায় এমন খবর রটে। অবশেষে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ওই বৃদ্ধার পরিচয় মিলেছে।

বুধবার, ১১ মে চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধাকে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বৃদ্ধা জানান, তার নাম পদ্ম রানি। বাবার নাম বাচা চন্দ্র। বাড়ি খুলনার আশাশনি থানার মৎস কালিবাড়ি এলাকায়।

ওই বৃদ্ধা আরও জানান, ট্রেনে অর্থসাহায্য চাইতে চাইতে তিনি খুলনা থেকে গাইবান্ধায় চলে আসেন। এরপর ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারের জিম্মায় তাকে দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

অবশেষে সেই বৃদ্ধার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার আসল নাম শেফালী সরদার। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে তার এক আশ্রয়দাতার কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। মানসিক ভারসাম্যহীন শেফালী খুলনা দৌলতপুর থেকে পথ হারিয়ে গাইবান্ধায় চলে এসেছিলেন।

বৃদ্ধা শেফালীকে আশ্রয়দাতার নাম সুফিয়া বেগম। খুলনার দৌলতপুরের বাসিন্দা সুফিয়া সদ্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সুফিয়া জানান, বৃদ্ধা শেফালীর কাছের আত্মীয়-স্বজন কেউ নেই। তিনি গৃহহীন ও প্রতিবন্ধী। বৃদ্ধার নামে প্রতিবন্ধীর কার্ডও রয়েছে যা তাকে জিম্মায় নেওয়ার জন্য প্রমাণ হিসেবে পুলিশকে দেখিয়েছেন সুফিয়া। অনেক দিন ধরেই বৃদ্ধা শেফালী তার আশ্রয়ে আছেন বলেও জানিয়েছেন সুফিয়া।

বৃদ্ধা শেফালী ও তার আশ্রয়দাতা সুফিয়ার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার সকালে বৃদ্ধাকে আশ্রয়দাতা সুফিয়ার কাছে হস্তান্তর করে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ।

গাইবান্ধা থানা সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য শুক্রবার সকালে খুলনার দৌলতপুর থেকে গাইবান্ধা থানায় পৌঁছান তার আশ্রয়দাতা সুফিয়া। এসময় তিনি বৃদ্ধা শেফালীর নামে বরাদ্দকৃত প্রতিবন্ধী কার্ড প্রদর্শন করেন। দৌলতপুরে যে গ্রামে সুফিয়া থাকেন সেই গ্রামের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে কথা বলে আশ্রয়দাতা সুফিয়ার কাছে বৃদ্ধা শেফালীকে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের বুধবার সকালে খবর চাউর হয়, মারা যাওয়ার নয় মাস পর বাছিরন বেওয়াকে তার ছেলের বাড়িতে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার ছেলে গাইবান্ধা পৌর এলাকায় অবস্থিত ডেভিট কোম্পানি পাড়ার আব্দুর রশিদ গেদা

এলাকাবাসী জানায়, বাছিরন বেওয়া নয় মাস আগে মৃত্যুবরণ করেন। তার স্বামী মৃত বাহার শেখ। স্টেশন জামে মসজিদে বাছিরন বেওয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কিন্তু বুধবার সকালে আব্দুর রশিদ গেদার বাড়িতে তার মা বাছিরন বেওয়ার মতো দেখতে এক বৃদ্ধাকে পাওয়া যায়। এই কথা এক কান দুই কান করে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হইচই পড়ে যায়। বহু মানুষ ভিড় করতে থাকেন আব্দুর রশিদ গেদার বাড়িতে। এমনকি পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই বৃদ্ধাকে থানায় নিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে আব্দুর রশিদ গেদা বলেন, মঙ্গলবার রাতে স্টেশন এলাকায় একজন বৃদ্ধাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখি। তার চেহারা আমার মায়ের মতোই। কিছুক্ষণ কথা হয় তার সঙ্গে। এরপর তিনি শুয়ে পড়লে একটি কয়েল জ্বালিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে আসি। কিন্তু পরদিন বুধবার সকালে কে বা কারা তাকে আমার বাসায় রেখে যায়।

এদিকে ঘটনাটিকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. ওয়াহেদুল ইসলাম জানান, কবর থেকে লাশ উঠে আসার খবর গুজব ছাড়া আর কিছুই না। আটককৃত বৃদ্ধা দেখতে অনেকটাই মৃত বাছিরন বেওয়ারের মতো। এজন্য এলাকায় হইচই পড়ে যায়। খবর পেয়ে এসআই জাহাঙ্গীরকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি বৃদ্ধা এবং বাড়ির মালিক আব্দুর রশিদকে থানায় নিয়ে আসেন। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।