দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ভোলার বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক

146
দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ভোলার বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক
দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ভোলার বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক

কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা থেকে : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠছে মনোরম পরিবেশে ও মনমুগ্ধকর বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক। ইতোমধ্যে প্রতিদিনই হাজার হাজার দর্শনার্থীদের পথচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক। প্রকৃতির নির্মল বাতাসে আর মেঘনা নদীর ঢেউয়ের তালে বসে প্রশান্তির ছোঁয়ায় মন জুড়িয়ে যায় যেকোনো মানুষের।

এটি ভোলার চরফ্যাশন পর্যটনের জন্য এক নতুন দিগন্ত। বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক নজর কেড়েছে সকল শ্রেনী পেশার দর্শনার্থীদের। দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসছেন মানুষ। ঈদের ছুটিতে ঢল নামে দর্শনার্থীদের। সম্ভাবনাময় এ পর্যটন স্পটটি উপজেলার পর্যটন শিল্পকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থীরা।

মনোরম পরিবেশে চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের বেতুয়ায় মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠছে মনমুগ্ধকর বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক। চরফ্যাশন-মনপুরার আধুনিক রুপকার সাবেক উপ-মন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি’র একান্ত প্রচেষ্টায় দর্শনার্থীদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে এখানে বিভিন্ন স্থাপনা। যেখানে বসে প্রকৃতি ও মেঘনা নদীর ঢেউয়ের তালে বসে প্রশান্তির ছোঁয়ায় মন জুড়িয়ে যায়।

প্রতিদিন হাজার হাজার কিশোর, কিশোরী, যুবক, যুবতী ও বৃদ্ধরাও এমন মনোরম পরিবেশ দেখতে ভিড় জমায়। সকাল থেকে গভীর
রাত পযর্ন্ত এখানে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা । বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটক ও
দর্শনার্থীরা। এখানে এসেই মুগ্ধ তারা।

ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী জানালেন, ভোলার চরফ্যাশনে অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মত এটিও অনেক সুন্দর। চরফ্যাশনে আরো রয়েছে ১৭ তলা বিশিষ্ট জ্যাকব
আইফেল টাওয়ার। চরকুকরী-মুকরী আধুনিক পর্যটক কেন্দ্র ও সুন্দর বনের আদলে দ্বিতীয় সুন্দর বন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেতুয়া মেঘনা নদীর তীরে ১০-১৫ একর জমির জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই পার্কটি এখন সবার নজর কেড়েছে। বেশ কয়েকটি ছোটঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে খাবারের জন্য তৈরি করা হয়েছে কয়েকটি কুড়ে ঘরের আদলে ঘর। সাথে রয়েছে আলোকসজ্জা আর খুব কাছ থেকে প্রকৃতি দেখার সুযোগ। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য ছাড়াও জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, নদীর উত্তাল ঢেউ, নির্মল বাতাস আর অপরূপ প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখা যাবে এখানে বসেই। ঘুরতে আশা দর্শনার্থীরা জানালেন, এখানে প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য দেখার পাশাপাশি ইলিশ ভাজা খাওয়ার স্বাদ নেওয়া যায়। এছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের বাহারী খাবারও।

এদিকে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে এখানে পর্যটন ও দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয় বাড়তি পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাড়ানো হয় প্রশাসনের নজরদারি। চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মনির হোসেন মিয়া বলেন, ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে ঘোরাফেরা করতে পারে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রশাসনিক নজরদারিও বাড়ানো হয়।