দরদী আবেদনে স্বামীর স্থায়ী কবর পাচ্ছেন ক্রিকেটার রুবেলের স্ত্রী রুপা (ভিডিও)

222

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই চাওয়া। আপনি তো অনেককেই অনেক কিছু দেন। ক্রিকেটারদের জন্য অনেক কিছু করেন। রুবেলের মতো মৃত ক্রিকেটারকে কি এক ফোঁটা মাটির ব্যবস্থা করে দেবেন? শুধু একটি স্থায়ী কবর। আর কিছু চাওয়া নেই আমার। এভাবেই স্বামীর স্থায়ী কবরের জন্য আবেগী আবেদন জানান সদ্যপ্রয়াত ক্রিকেটার রুবেলের স্ত্রী ফারহানা রুপা।

এমন দরদী আবেদনে সাড়া না মিলে কি পারে? সদ্য স্বামী হারানোর বেদনায় নীল হৃদয় থেকে উৎসারিত হৃদয়ছোঁয়া সেই আবেদন ঠিকই পৌঁছে গেছে সরকারের কাছে। মানবিক আবেদনে মানবিক সাড়াও মিলেছে।

ক্রিকেটার রুবেলের কবর স্থায়ী করে দেওয়ার সব ব্যবস্থা করে দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়য় আতিকুল ইসলাম। বর্তমানে ওমরাহ পালন করতে মক্কা অবস্থান করছেন মেয়র আতিক। দেশে ফিরেই সব ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন মেয়র নিজেই।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেল মরণঘাতী ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ১৯ এপ্রিল রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪০ বছর।

মৃত‌্যুর পর রুবেলের শেষ ঠিকানা হয় রাজধানীর বনানী কবরস্থান। সেখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে কবরের জায়গা পান তিনি। নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর পর তার কবরে জায়গা হবে অন্য কারও।

কিন্তু রুবেলের স্ত্রী রুপার মন তাতে সাঁয় দেয়নি। তাইতো গণমাধ্যমের সামনে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বামীর স্থায়ী কবরের জন্য মৌখিকভাবে সরকারের কাছে আবেদন জানান রুপা।

প্রধানমন্ত্রী ও মেয়রের প্রতি আ‌বেগঘন এক আবেদন জা‌নি‌য়ে রুপা ব‌লেন, বনানী কবরস্থানে যেন রুবেলের কবর স্থায়ী করা হয়। তার সন্তান যেন জানতে পারে, তার বাবা চিরনিদ্রায় শায়িত আছে বনানীর এই কবরস্থানে।

গত ২২ এপ্রিল স্বামীর কবর জিয়ারত শেষে বনানী কবরস্থানের বাইরে উপ‌স্থিত গণমাধ্যমের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুপা বলেন রুবেল তো আসলে আমাদের সবার। তাই না? রুবেল তো দেশের জন্য খেলেছে। মাত্র দুই বছরের জন্য সে এখানে (থাক‌তে পার‌বে)। সত্যি বলতে, এখানে কবর স্থায়ী করতে হলে অনেক টাকা লাগে। প্রায় এক কোটির মতো। আমাদের কাছে তো এত টাকা নেই। আমি চাই রুবেলের কবরটা স্থায়ী হক। ও যেন একটু মাটি পায়।

বনানী কবরস্থানের নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর পর কবর পরিবর্তন করা হয়। একজ‌নের কব‌রে আ‌রেকজন‌কে সমা‌হিত করা হয়। কবর স্থায়ী করতে চাইলে ‌বিপুল প‌রিমাণ অর্থ দিয়ে জায়গা কিনতে হয়। এত টাকা খরচ ক‌রে কব‌রের জায়গা কেনা সম্ভব নয় জা‌নি‌য়ে সরকা‌রের কাছে আবেদন করেন ফারহানা রুপা।

রুবেল ও ফারহানা দম্পতির একমাত্র সন্তান রুশদান। এখনও সে অবুঝ। বুঝতে শিখলে বাবার কবর যেন সে দেখতে পায়, বাবার অস্তিত্ব যা‌তে অনুভব করতে পারে বনানী কবরস্থা‌নে এ‌সে- চো‌খের জ‌লের স‌ঙ্গে এমন আকু‌তি ঝ‌ড়ে প‌ড়ে ফারহানা রুপার ক‌ণ্ঠে। কাঁদ‌তে কাঁদ‌তে তি‌নি ব‌লেন, রুবেলের জন্য একটু মাটি যেন আমার ছেলেটা দেখতে পারে। দুই বছর পর তুলে ফেললে আমরা তো আর পাব না। রুবেল তো আর কোথাও নেই। হা‌রি‌য়ে গেছে। আমাদের জন্য (রু‌বেল) শুধু এখানেই আছে।

এ‌দি‌কে গণমাধ্যমে রুপার মান‌বিক আ‌বেদন‌টি সম্প‌র্কে অবগত হওয়ামাত্রই মানবিক বিবেচনায় রুবে‌লের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

ক্রিকেটার রুবেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ক‌রে মেয়র আ‌তিক বলেন, মোশাররফ হোসেন রুবেল নিজের জন্য খেলেননি। দেশের জন্য খেলেছেন। তার অবদান দেশের মানুষকে গর্বিত করেছে। সে কারণে তার কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করছি।

মেয়র আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, যে মানুষটি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছেন সেই মানুষটি চিরবিদায়ের বেলায় এক টুকরো মাটি পাবে না তা হতে পারে না। পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে ব‌লেও জানান তি‌নি।