তেঁতুলিয়ায় গ্রাম আদালত বিচার-সালিশে জনপ্রিয়তার পঞ্চমুখে ছলেমান

তেঁতুলিয়ায় গ্রাম আদালত বিচার-সালিশে জনপ্রিয়তার পঞ্চমুখে ছলেমান
তেঁতুলিয়ায় গ্রাম আদালত বিচার-সালিশে জনপ্রিয়তার পঞ্চমুখে ছলেমান

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : সর্বত্তোরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ৭নং দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতের বিচার-সালিশে জনপ্রিয়তার পঞ্চমুখ অর্জন করেছেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ছলেমান আলী। তিনি ওই ইউনিয়নের ব্রম্মতোল গ্রামের সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মৃত হাকিম উদ্দিনের দ্বিতীয় পুত্র এবং ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি।

তেঁতুলিয়ায় গ্রাম আদালত বিচার-সালিশে জনপ্রিয়তার পঞ্চমুখে ছলেমান

উপজেলায় গত সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দেবনগড় ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ছলেমান আলী। তিনি স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৩শ ৯০ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

সরে জমিনে গিয়ে উপকারভোগী ও গ্রাম আদালত দ্বারস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা যায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণকৃত সর্বদা অসহায় দরিদ্রের পাশে থাকা ছলেমান আলী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি তার ওয়াদা “শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে আধুনিক পরিষদ গড়ার লক্ষ্যে” এবং ‘নীতিতে অটল, দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে তিনি আপোষ করবেন না’ এই ওয়াদার প্রতিফলন করছেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদকে করেছেন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষমুক্ত।

সরকারিভাবে দেয়া যেকোন সুযোগ সুবিধায় প্রকাশ্যে মাইকিং করিয়ে জানিয়ে দেন ওই এলাকার গরীব দুঃখী অজানা জনগণকে। এতে অসহায় গরীব দুঃখী জনগণ হয়রানি আর আর্থিক লেনদেনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর গ্রাম আদালতে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত কমিটির সাপেক্ষে বিচার-সালিশের কার্যক্রম করেন। অপরদিকে চেয়ারম্যানের উক্তরুপ কার্যক্রম দেখে কতিপয় ইউপি সদস্যরা তার প্রতি সন্তুষ্ট নন। কতিপয় ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের প্রতি ক্ষুব্দ হয়ে কোন দুষ্কৃতি ব্যক্তির সহযোগিতা নিয়ে একটি বানোয়াট ভিত্তিহীন ও মানহানিকর অপপ্রচার চালিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

তেঁতুলিয়ায় গ্রাম আদালত বিচার-সালিশে জনপ্রিয়তার পঞ্চমুখে ছলেমান

গ্রাম আদালত বিচার-সালিশের দ্বারস্থ হওয়া ভজনপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মোঃ ফারাজ উদ্দিন ফয়েজ বলেন, উনার ক্রয়কৃত এক জমি প্রায় কয়েকবছর ধরে কোন্দল হয়ে আসছিলেন এবং সেই জমি নিয়ে আর্থিকভাবে অনেক হয়রানি শিকার হয়েছেন। ছলেমান চেয়ারম্যান তাদের সেই পুরনো দ্বন্দের সঠিক তথ্যাদি যাচাই-বাচাই করে উভয়পক্ষকে আপোষ করে দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা উভয়পক্ষ শান্তিতে বসবাস করছেন। এ ধরণের বক্তব্য আরও পাওয়া গেছে।

ওই ইউনিয়নের আতমাগছ গ্রামের আব্দুল সাত্তারের ছেলে অটোভ্যান চালক বেলাল বলেন- সে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) খাদ্য সরবরাহের জন্য যারা অসহায়, গরীব ও অসচ্ছল ব্যক্তি রয়েছেন তাদের তালিকা গ্রহন পূর্বক পরিচয়পত্র দেয়া হবে বলে নিদির্ষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এই কথা শুনে বেলাল চেয়ারম্যানের চেম্বারে তার কাগজপত্র নিয়ে গেলে হোল্ডি ফি ব্যতিত বিনা টাকায় কাগজপত্র গুলো জমা নেন চেয়ারম্যান।

গ্রাম আদালতের দ্বারস্থ হওয়া শিক্ষক বশিরুল আলম, নিজবাড়ি গ্রামের কাজলদাস, হাটুপাড়া গ্রামের সফিকুল ইসলাম, মানিক ডোবা গ্রামের বাশারুল ইসলাম ও দেবনগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান- তাঁরা তাদের জমাজমি বিষয়ের অভিযোগ গুলো চেয়ারম্যানের হাতে স্বয়ং জমা দিয়েছেন।

আর তাদের বিচার সালিশের কার্যক্রম করছেন চেয়ারম্যান নিজেই। তিনি তার ক্ষমতা কাউকে দেয়নি এবং উনার চেয়ারেও কেউ বসেননি। তবে যেকোন মামলা বা অভিযোগের বিচার-সালিশ করতে জমাজমি বিষয়ে জানেন এমন প্রতিনিধির প্রয়োজন হয় তাই চেয়ারম্যানের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে তাদের পক্ষে আব্দুস সাত্তারকে বিচার-সালিশে রাখা হয়।

অভিযোগকারীরা আর্থিকভাবে হয়রানি ও কোর্ট কাচারীর শিকার না হয়ে শাস্তিপূর্ণভাবে গ্রাম্য আদালতে তাদের নায্য বিচার পাচ্ছেন এবং পাবেন বলেও জানিয়েছেন। দেবনগড় গ্রাম আদালত সূত্রে জানা যায়, ফৌজদারি ও দেওয়ানী মিলিয়ে মোট ১১৯টি মামলা দাখিল হয়েছে। তার মধ্যে ২২টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং উচ্চ আদালতের পরামর্শ নিতে বলা হয়ছে ৬টি মামলার বাদী-বিবাদীদের।


এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছলেমান আলী বলেন, তিনি দুর্নীতি ঘুষমুক্ত পরিষদ গড়তে ক্ষমতা পাওয়ার পর থেকে আড়াই মাসে অনেক ভোগান্তি মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তি করেনছেন।

তিনি এক সন্তান পরিত্যাক্তা মাকে সন্তানদের কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে তাদের হাতে মায়ের দেখভালে দায়িত্ব তুলে দেন। তিনি বলেন, ইউনিয়নে সরকারিভাবে দেয়া যেকোন সুযোগ সুবিধা প্রকাশ্যে মাইকিং করিয়ে অসহায় গরীব দুঃখী জনগণকে জানিয়ে সেই কার্যক্রম করা হয়। তিনি আরও বলেন, কোন গরীব অসহায় মানুষদের যেন ভাতার কার্ড নিতে আর্থিকভাবে হয়রানি হতে না হয় সে দিকটি বিবেচনা করে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

এছাড়াও তিনি জানান, তাঁর এই জনপ্রিয়তা ও ন্যায় প্রবণতার কার্যক্রমে কিছু ইউপি সদস্য অসন্তুষ্ট হয়ে সঠিক বিচার বিবেচনায় হেরে যাওয়া বাদী-বিবাদীদের উস্কানী দিয়ে এবং দুষ্কৃতি ব্যক্তির সাথে হাত মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।