তিস্তা নদীতে তলিয়ে গেছে চার শতাধিক বিঘা বাদাম ক্ষেত

123
তিস্তা নদীতে তলিয়ে গেছে চরা শতাধিক বিঘা বাদাম ক্ষেত
তিস্তা নদীতে তলিয়ে গেছে চরা শতাধিক বিঘা বাদাম ক্ষেত

ডিমলা নীলফামারী প্রতিনিধি : টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নীলফামারী ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়া কারণে সর্বগ্রাসী তিস্তা নিয়ে গেল শতাধিক বিঘার বাদাম খেত। 

এতে চরম ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ চর অঞ্চলের  চাষীরা। অনেকে লোকসান কমাতে তলিয়ে যাওয়া ক্ষেত থেকে বাদাম তোলারও চেষ্টা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগা খড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে কয়েক শতাধিক বিঘা জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে চরাঞ্চলের কয়েকশত বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে, অনেকের জমি তিস্তায় বিলিন হয়েছে। 

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চর খড়িবাড়ি গ্রামের চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, চলতি মৌসুমে বাদামের ভালো ফলনের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু অকাল বন্যায় সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে কৃষকদের। যার যেটুকু সেই বাদাম তিস্তা নদীর গাইড বাঁধে পরিবারের সবাই মিলে গাছ থেকে বাদাম ছাড়িয়ে স্তূপ করে রাখছেন।

কৃষকরা জানান, জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে পরবর্তী প্রায় এক মাস চরের বালি মিশ্রিত জমিতে বাদাম আবাদ করা হয়। আর সেই বাদাম জমি থেকে তোলা শুরু হয় মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে। সাধারণত জুনের শেষ সপ্তাহের মধ্যে সব বাদাম কৃষকের ঘরে উঠে যায়। তবে এবারে টানা বৃষ্টি এবং তিস্তার প্লাবনে তা হতে দেয়নি।

বাদাম চাষি লেবু মিয়া, আবু তাহের, লিখন ইসলাম প্রমূখ জানায় কৃষকেরা  বন্যার পূর্বেই  জমি থেকে বাদাম তোলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ওই সময় ভুট্টা তুলায় শ্রমিক সংকটও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে উঠতি বাদাম তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। পানিতে ডুবে থাকা বাদাম বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যকে নিয়ে বাদাম তুলছেন। কিন্তু এভাবে বাদাম তোলার পর অর্ধেক ফলনও পাওয়া যাচ্ছে না। এর ওপর বেশির ভাগ ডুবে যাওয়া জমি থেকে বাদাম তোলা সম্ভবও হচ্ছে না।

 ৭ নং খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুজ্জামান সরকার  বলেন,তিস্তা নদীর দুই কূলেই বাদাম চাষের অনেক জমি রয়েছে। এসব জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের দুরবস্থা দেখে আমার খুব খারাপ লেগেছে। কিন্তু কিছুই করার নেই কারণ প্রকৃতির উপর কারই হাত নেই।  

খালিশা চাপানি ইউনিয়নের বাইশ পুকুর গ্রামের  ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম শীমুল জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বাদামের ভালো ফলন হয়েছিলো। এবার দামও বেশী ৩ হাজার ৪ শত থেকে ৩ হাজার আট শত টাকা। কিন্তু অসময়ে তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় শত শত বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে।  

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) সেকেন্দার আলী বললেন, গত কয়েক  মাস আগে শীলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে প্রথমে বাদাম ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তিস্তা চরের অনেক বাদাম ক্ষেত তলিয়ে যায়। তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই জমির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।