তাজমহলে তালাবন্ধ ২২ গোপন কুঠুরি খুলে দিতে আদালতে আবেদন (ভিডিও)

165
তাজমহলে তালাবন্ধ ২২টি গোপন কুঠুরি খোলার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বিজেপি।
তাজমহলে তালাবন্ধ ২২টি গোপন কুঠুরি খোলার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বিজেপি।

পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি তাজমহল। মোগল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী মমতাজের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে এটি নির্মাণ করেছিলেন। সম্পূর্ণ সাদা মার্বেল দিয়ে তৈরি অসাধারণ দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপত্য নির্মাণে তৎকালীন সময়ে খরচ হয়েছিল ৩ কোটি ২০ লাখ রুপি। ২০ হাজার শ্রমিক ২২ বছর ধরে সুণিপুণ হাতে এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন।

কথিত আছে, তাজমহল নির্মাণ শেষে নির্মাণ শ্রমিকদের হাতের আঙ্গুল কেটে দেয়া হয়েছিল যাতে তারা অন্য কোথাও আবার এ ধরনের কাজ করতে না পারেন। ১৬৪৮ সালে তাজমহলের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তাজমহলকে মোগল স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তাজমহলে তালাবন্ধ ২২টি গোপন কুঠুরি খোলার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপি। শুধু তাই নয়, এই সমাধি সৌধে কোনো মন্দির ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত দল গঠনেরও আবেদন জানিয়েছে বিজেপি। সম্প্রতি ইলাহাবাদ হাইকোর্টে এই আবেদন করে বিজেপি।

এ বিষয়ে রোববার, ৮ মে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাজমহলের ২২টি বন্ধ ঘর খোলার আর্জি জানিয়ে আদালতের কাছে আবেদনে করা হয়েছে। সত্য যাই হোক না কেন তা প্রকাশ্যে আসা উচিত।

তাজমহল মূলত সমাধিসৌধ হলেও এটি নির্মাণের সময় অনেকগুলো ঘর তৈরি করিয়েছিলেন সম্রাট শাহজাহান। মূল সমাধিস্থলের নিচে রয়েছে ২২টি ঘর যেগুলো যুগের পর যুগ ধরে তালাবন্ধ রয়েছে। কেউ সেগুলো দেখার সুযোগ পায়নি। অনেকের ধারণা, গোপন কুঠুরিগুলোতে হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি থাকতে পারে।

তাজমহলের প্রধান হলঘরে দুটি সমাধি দেখা যায়। কিন্তু সেগুলো আসল সমাধি নয়। হলঘরে ঢোকার মুখেই একটি সিঁড়ি নিচে নেমে গেছে যার দরজা সবসময় বন্ধ থাকে। ধারণা করা হয়, মমতাজ এবং সম্রাট শাহজাহানের আসল দুটি সমাধি সেখানেই রয়েছে।

তাজমহলের উত্তর দিকের প্ল্যাটফর্ম থেকে দুটি সিঁড়ি নিচের দিকে নেমে গেছে। সেখানে রয়েছে গোপন কুঠুরি যার সবগুলোই তালাবন্ধ। ঠিক এর নিচেই রয়েছে একটি বারান্দা যেটি ধরে পৌঁছে যাওয়া যায় মূল সমাধিস্থলের নিচে।

ব্রিটিশ আমলের একটি নথিতে উল্লেখ রয়েছে, বারান্দার নিচে চোরাকুঠুরি থাকতে পারে। বারান্দাটিতে আলো-বাতাস ঢোকার পথ খুব কম থাকায় খবর চাউর হয়, তাজমহলের ওই বারান্দার নিচে যে চোরাকুঠুরি আছে তাতে গুপ্তধন থাকতে পারে।

কিন্তু যুক্তিবাদীরা ওই খবরকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, সাদা মার্বেল পাথরের তৈরি ঘরগুলোতে লোকজনের ভিড় বেশি হলে তাদের নিঃশ্বাস থেকে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের সংস্পর্শে এসে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মূল কাঠামোর শ্বেতপাথরের ক্ষতি হতে পারে। সে কারণেই ওই ঘরগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি অযোধ্যার এক সন্ন্যাসী ও তার তিন শিষ্যকে তাজমহলে প্রবেশ বাধা প্রদানের অভিযোগ ওঠে। ওই সন্ন্যাসীর দাবি, তাজমহল আসলে তেজো মহালয় মন্দির। কৃষ্ণের জন্মভূমি মথুরায় শাহী মসজিদ এবং উত্তরপ্রদেশে বিশ্বনাথ মন্দির লাগোয়া জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। সেই তালিকায় এবার তাজমহলের নামও যুক্ত হলো। এর মধ্য দিয়ে যোগীরাজ্যে ইসলামী স্থাপত্য ঘিরে আবারও বিতর্কের সূচনা হলো।

১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার সময় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা স্লোগান দিয়ে বলেছিল, ইয়ে তো স্রেফ ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়। নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরপরই তারা কাশী ও মথুরায় মসজিদ সরানোর দাবি তোলে। ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা চলা অবস্থাতেই হিন্দুত্ববাদীদের দাবির তালিকায় এবারে যুক্ত হলো হিন্দুস্তানের মাটিতে ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন তাজমহল।