ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্যের কিছুটা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে

87
ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্যের কিছুটা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে
ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্যের কিছুটা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে

মো.মুক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম ব্যুরো: চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র উদ্যোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা গতকাল সোমবার সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে জাতীয়

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ, চেম্বার পরিচালক মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশন’র সাধারণ সম্পাদক ও চেম্বারের সাবেক পরিচালক ছৈয়দ ছগীর আহমদ, মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সালামত আলী, বাংলাদেশ

দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি সালেহ আহমেদ সুলেমান, পাহাড়তলী বণিক সমিতি, কর্ণফুলী বাজার সমিতি, চাকতাই আড়ৎদার সমিতির প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মোঃ ইফতেখার ফয়সাল, মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাসিরুল

আলম (ফাহিম), আমদানিকারক, বিভিন্ন মার্কেট এসোসিয়েশন, দোকান মালিক সমিতি, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন-বর্তমানে দেশে ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। করোনা মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি

ইত্যাদি কারণে আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্যের কিছুটা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সারা দেশের প্রায় ৫৪ লক্ষ ব্যবসায়ীর মধ্যে অল্প সংখ্যক ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফার কারণে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে বলে তিনি জানান। চেম্বার সভাপতি চট্টগ্রামের সকল মার্কেট এবং দোকান মালিক সমিতি/এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দের

প্রতি নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন মজুদদার বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের প্রতি কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি ব্যবসায়ীদের দেশের সেবক এবং ঝুঁকি নিয়েই দেশের কল্যাণে কাজ করছে উল্লেখ করে বলেন-গুটি কয়েক ব্যবসায়ীর কারণে যাতে

ব্যবসায়ী সমাজের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। মাহবুবুল আলম সাপ্লাই চেইন, সব ব্যাংক কর্তৃক ডলারের একই মূল্য রাখা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ মিল থেকে সরাসরি ভোজ্যতেল বিক্রির অনুরোধ জানিয়ে ১৫ দিনের মধ্যেই সেলস্ অর্ডার (এস.ও) ক্লিয়ার করার কথা জানান। তিনি বলেন-কোম্পানীর সেলস্ রিপ্রেজেন্টিটিভদের (এস.আর) অনেক সময় ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজস থাকতে পারে। তাই এস.আর’দের এই অনৈতিক

কর্মকান্ডের দায় কোম্পানী এড়াতে পারে না। মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ সকলের বিবেককে জাগ্রত করে অবৈধ মজুদদাররা যেন ফায়দা লুটতে না পারে তার জন্য স্ব-স্ব অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানিয়ে পুরনো মাল পুরনো দামে বিক্রি করার আহবান জানান। চেম্বার পরিচালক মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন) বলেন-

একজন ব্যবসায়ীর অনৈতিক ও অযৌক্তিক কর্মকান্ডের জন্য সকলকে কলংকিত করা যাবে না। কেউ যাতে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরী করতে না পারে এ ব্যাপারে তিনি নেতৃবৃন্দকে মার্কেটভিত্তিক বৈঠক করার অনুরোধ জানান।

অন্যান্য বক্তারা পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেলের শুল্ক মূল্যের পার্থক্য ন্যূনতম ৩/৪ মাসের জন্য সমন্বয় করা, অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থাকরণ, ২/৩ জনের কাছে বিক্রি না করে সকল ডিলারদের নিকট বিক্রি করা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভোগ্যপণ্য আমদানিতে উৎসাহ প্রদান, ভোগ্যপণ্যের শুল্ক কমানো, আসন্ন কোরবানের সময়

পেঁয়াজ, রসুন, আদা ইত্যাদি মসলার বাজার স্থিতিশীল রাখা, ব্যবসায়ীদের অরিয়েন্টেশনের ব্যবস্থাকরণ, দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের প্রতি উৎসাহিতকরণ, কৃষিবান্ধব বাজেট প্রণয়ন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে লাগামটানা, মজুদের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়া, সঠিক সময়ে সরকারের দিক নির্দেশনা প্রদান করা, বাজার মনিটরিং এ সরকারের কোন সংস্থা করবে তা পূর্বে অবহিতকরণ, কোম্পানীর এস.আর. কর্তৃক রসিদ প্রদান, সকল দোকানে মাল সরবরাহ ইত্যাদি দাবী উত্থাপন করেন।