টেকসই বিশ্ব নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর

83

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কার্বন নি:সরণ হ্রাস এবং লিঙ্গ-সমতা ভিত্তিক টেকসই বিশ্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে কমিশন অভ দ্যা স্ট্যাটাস অভ উইমেন (সিএসডব্লিউ) এর ৬৬তম অধিবেশনে প্রদত্ত বক্তব্যে এ কথা বলেন । সিএসডব্লিউ-এর এবারের প্রতিপাদ্য ‘জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস নীতি ও কর্মসূচিসমূহের প্রেক্ষাপটে লিঙ্গ-সমতা অর্জন এবং সকল নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন’। এই অধিবেশন গত ১৪ মার্চ শুরু হয়েছে যা ২৫ মার্চ শেষ হবে।

প্রতিমন্ত্রী সিএসডব্লিউতে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ।

বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করাসহ নারীর ক্ষমতায়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট বাংলাদেশের নাজুক পরিস্থিতি ও দুর্যোগ ঝুঁকির ওপর আলোকপাত করেন।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক ২০২১ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম, যদিও বৈশ্বিক কার্বন নি:সরণে আমাদের অবদান মাত্র ০.৪৭ শতাংশেরও কম। তিনি লিঙ্গ সংবেদনশীল জলবায়ু কর্মসূচি, অভিযোজন, প্রশমন, ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত বিভিন্ন আইন, নীতি ও কর্মসূচিসমূহের কথা উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কপ-২৬ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বেঁচে থাকার জন্য অর্থায়ন নিশ্চিতের ওপর জোর দিতে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম-এর ৫৫ সদস্যের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আহ্বান জানিয়েছিলেন তা সিএসডব্লিউ অধিবেশনে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলো নারীরা। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে নারী ও মেয়েরা যে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে তা কাটিয়ে উঠতে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সম্পদের সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া তিনি ‘সমতার নীতি’ ও ‘লিঙ্গ-জলবায়ু ন্যায়বিচার’ চালু করার ওপরও জোর দেন।

পরে বুরুন্ডির নারী ও যুবমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁরা নিজ নিজ দেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন। তাঁরা উভয়ে নারী উন্নয়ন বিষয়ক উত্তম চর্চাগুলো দুই দেশের মধ্যে বিনিময় করে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।