টেকসই পরিবেশকে মানবাধিকারের স্বীকৃতি জাতিসংঘের

89

স্বচ্ছ, নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই পরিবেশকে প্রথমবারের মতো মানবাধিকারের আওতাভুক্ত করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের গৃহীত “ঐতিহাসিক’’ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশের তরুণ জলবায়ু কর্মীরা।

পরিবেশবাদী সংস্থা ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এবং ফ্রাইডেস ফর ফিউচার বাংলাদেশ একটি যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, পরিবেশ ও মানবাধিকার সংরক্ষণ পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের বেঁচে থাকা নির্ভর করে আমাদের গ্রহের স্বাস্থ্যের ওপর।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দুঃখজনকভাবে বিশ্ব সর্বত্র সবার জন্য এই অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকার করতে পঞ্চাশ বছর সময় নিয়েছে। যা ১৯৭২ সালে স্টকহোম ঘোষণার প্রথম অংশে “বেঁচে থাকার অধিকার” এবং একটি “মৌলিক মানবাধিকার” এর অংশ হিসাবে বর্ণিত হয়েছিল।

“তিনটি গ্রহজনিত সংকটের (জলবায়ু, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং দূষণ) মুখে পৃথিবীর মানুষের বিশেষ করে তরুণদের মঙ্গল ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকার জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই পরিবেশের মানবাধিকারের স্বীকৃতি অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এই অধিকারের বৈশ্বিক স্বীকৃতি পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞের বিপরীতে স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনমান, স্বাস্থ্য আর সংস্কৃতি সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে,” বিবৃতিতে
ফ্রাইডেস ফর ফিউচার বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সোহানুর রহমান উল্লেখ করেন। ধরিত্রী ও মানুষের জন্য এই ঐতিহাসিক অগ্রগতি আরো বেশি জবাবদিহিতা, সাহসী জলবায়ু পদক্ষেপ এবং পরিবেশগত সুবিচারের জন্য একটি অনুঘটক হতে পারে বলে মনে করেন সোহানুর।

বিবৃতিতে ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের জাতীয় সমন্বয়কারী শাকিলা ইসলাম বলেন, “আমাদের সংবিধানের ১৮-ক-এর অনুচ্ছেদ এ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্য প্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন, যা সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা যায়।’ সংবিধান অনুযায়ী, সরকারকে শুধুমাত্র পরিবেশ রক্ষা করলে হবে না, বরং জনগণের জীবনের অধিকার রক্ষার জন্য এর উন্নয়নেও কাজ করতে হবে’।

তিনি বায়ুর গুণগতমান, নিরাপদ ও পর্যাপ্ত সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যকর মাটি, টেকসই উত্পাদিত খাদ্য, সবুজ শক্তি, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব,ক্ষতিকারক পদার্থ নিয়ন্ত্রণ সহ উন্নত নীতিমালার প্রণয়ন এবং এর সঠিক বাস্তবায়নের উপর গুরাত্বারোপ করেন।

এর আগে, গত বছর স্বচ্ছ, নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই পরিবেশকে মানবাধিকারের আওতাভুক্ত করে একটি এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস করে
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার বিষয়ক গৃহীত প্রস্তাবটি তুলেছিল বাংলাদেশ। পাস হওয়া অন্য এক প্রস্তাবে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত খতিয়ে দেখতে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বিশেষ রিপোর্টার নিয়োগ করার কথাও জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও, বিশ্বজুড়ে সাধারণ জনগণ এখনও নিরাপদ, পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অধিকার বঞ্চিত। বর্তমানে, বিশ্বের জনসংখ্যার ৯০ ভাগ মানুষ দূষিত বায়ুতে শ্বাস নেয়।

২০১৫ সালে গৃহীত প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রস্তাবনায়ও বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার সময় “মানবাধিকারের উপর তাদের নিজ নিজ বাধ্যবাধকতাকে সম্মান করা, প্রচার করা এবং বিবেচনা করতে” রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে ৷ সেই অধিকারগুলো হল, প্রধানত: স্বাস্থ্য, উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, আন্তঃপ্রজন্মীয় ন্যায্যতা, আদিবাসী, স্থানীয় সম্প্রদায়, শিশু, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, অভিবাসী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার।