জায়েদ খানকে ধুয়ে দিলেন সানীপুত্র ফারদিন (ভিডিও)

707

সম্প্রতি ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক জায়েদ খানকে থাপ্পড় মেরেছেন ওমর সানী- এমন গরম খবরে তোলপাড় ওঠে দেশজুড়ে।

শোনা যায়, মৌসুমীকে নিয়ে কটুক্তি করায় নাকি জায়েদ খানকে থাপ্পড় মারেন ওমর সানী। অন্যদিকে ওমর সানীর হাতে থাপ্পড় খেয়ে চুপ বসে থাকার পাত্র নন জায়েদ খান। নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল বের করে তিনি ওমর সানীকে বলেন, গুলি করে দেবো।

এই ঘটনায় যখন চারদিকে তোলপাড় ঠিক সে সময়েই এক অডিও বার্তায় জায়েদ খানের পক্ষ নেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী যাকে কেন্দ্র করেই ঘটে ওই হুলস্থুল ঘটনা। তিনি পুরো ঘটনার জন্য ওমর সানীকেই দোষারোপ করেন। জায়েদ খানের কোনো দোষ নেই এবং কখনোই কটুক্তি করেননি বলে জানান মৌসুমী। তাকে অনেক স্নেহ করেন বলেও জানান তিনি। এমনকি অডিও বার্তার একটি অংশে স্বামী ওমর সানীকে ভাই বলেও সম্বোধন করেন মৌসুমী।

মৌসুমীর অডিও বার্তা প্রকাশের পর দেশজুড়ে আরেক দফা তোলপাড় ওঠে। কানাঘুষা ওঠে, তবে কি ভাঙতে চলেছে সানী-মৌসুমীর দীর্ঘ ২৭ বছরের সাজানো সংসার?

মৌসুমীর অডিও বার্তার জবাবে ওমর সানী ফেসবুক লাইভে জানান, তিনি তার অবস্থানে অনড় আছেন। জায়েদ খান আসলেই তার সংসার ভাঙার চেষ্টা করছেন। এজন্য শিল্পী সমিতিতে অভিযোগ দিয়ে বিচার চেয়েছেন তিনি। ছেলে ফারদিন তার অভিভাবক হিসেবে সবকিছু পরিষ্কার করবে বলেও জানান সানী।

বাবার কথামতো স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ফারদিন। বাবা ওমর সানীর পক্ষ নিয়ে বিতর্কিত চিত্রনায়ক জায়েদ খানকে রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন তারকা দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমীর পুত্র ফারদিন এহসান স্বাধীন।

‘আমার আব্বা এত বছর ধরে চলচ্চিত্র আছেন, তিনি তো না বুঝে কথা বলবেন না। আর যাঁকে নিয়ে অভিযোগ এসেছে, তাঁকে (জায়েদ খান), দিয়ে তো সব সম্ভব। এর চেয়েও বেশি নোংরা কিছু করা সম্ভব। সবকিছুই সম্ভব। তবে তাঁকে আমার ফ্যামিলির জন্য কোনো একটা ইস্যু বা টিস্যু কোনো কিছুই মনে করি না।’

ফারদিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি (জায়েদ খান) থাপ্পড় খাওয়ার যোগ্য বলেই থাপ্পড় খেয়েছেন। আমার মায়ের (মৌসুমী) দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছেন তিনি (জায়েদ খান)। এজন্য তাকে ঠিকমতোই শাস্তি দিয়েছেন আমার বাবা।

ফারদিন আরও বলেন, আমার বাবা সিনিয়র। (আমার বাবার সঙ্গে) তিনি (জায়েদ খান) বেয়াদবী করছেন। এই বেয়াদবীর কারণে তাকে থাপ্পড় দিয়েছেন (আমার বাবা)। থাপ্পড়ের পর যদি তিনি পিস্তল বের করেন, সেটা তো অবশ্যই দুঃখজনক।

ফারদিনের ভাষায়, আমাদের পরিবারে জায়েদ খান কীভাবে ক্ষতি করতে চাচ্ছেন তা বলতে গেলে লম্বা ঘটনা বলতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে জায়েদ খানকে কিছুই মনে করি না। (সাধারণত) কেউ কারও ক্ষতি করতে চাইলে (প্রতিপক্ষের) ব্যবসা ও পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। জায়েদ খানও তাই করেছেন। তার (ফারদিন) ব্যবসার ক্ষতি করতে চেয়েছেন জায়েদ। গত তিন-চার মাস ধরেই বুঝতে পারছিলাম, জায়েদ খান (আমাদের) ক্ষতি করার চেষ্টা করছিলেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি পুলিশ দিয়ে আমাকে ফোনও করিয়েছেন।

ফারদিন বলেন, তাকে (জায়েদ খান) দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অনেকেই অপছন্দ করেন। তার হাতে সিনেমা নেই, কোনো কাজ নেই। কাজ না থাকলে যা হয়। আমরা সবাই ব্যস্ত থাকি। তার না আছে ক্যামেরার জীবন, না আছে অন্য জীবন। যার কিছুই থাকে না তার লক্ষ্য থাকে যার কিছু থাকে তারটা নষ্ট করা।

ফারদিন আরও বলেন, শুধু আমার আম্মু না, তিনি (জায়েদ খান) কমবেশি সবাইকে হয়রানি করে থাকেন। তিনি আমার আব্বুর সাথে বেয়াদবী করেছেন। এমনকি আম্মুর সঙ্গেও বেয়াদবী করেছেন। কিন্তু আম্মু ভেবেছিলেন, ঘটনাটি না ছড়াক, পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। নিজেরাই সমাধান করতে চেয়েছিলেন। এসব কিছুর প্রমাণ হাতে আছে বলেও দাবি করেন ফারদিন। তবে জায়েদ খানের বিরক্ত করার প্রমাণ এখনই নয়, সময় হলেই সবার সামনে হাজির করবেন ফারদিন।