জলবায়ু স্মার্ট বিনিয়োগ পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে : খাদ্যমন্ত্রী

120

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দেশের মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা বিধানে সরকার বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে পুষ্টি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে তিনি এসময় উল্লেখ করেন।

বুধবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে ‘ড্রাফ্‌ট বাংলাদেশ থার্ড কান্ট্রি ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান্ট (সি আই পি থ্রি) এন্ড রিলিজ অভ্‌ আউটপুটস আন্ডার দ্য এমইউসিএইচ প্রজেক্ট’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষিতে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও জলবায়ু স্মার্ট বিনিয়োগ আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এসময় তিনি তৃতীয় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাজমানারা খানুম এর সভাপতিত্বে ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি , জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিম্পসন, শেরেবাংলা কৃষি বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ শহিদুর রশিদ ভূঁইয়া বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, একাডেমিয়া এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ নেন।

কর্মশালায় বাংলাদেশ তৃতীয় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা- টেকসই, পুষ্টি সংবেদনশীল এবং স্থিতিস্থাপক খাদ্য ব্যবস্থা (সিআইপি ৩, ২০২১-২০২৫) খসড়া সংস্করণ উন্মোচন করা হয়। খসড়াটি জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি ২০২০-এর কর্ম পরিকল্পনার (২০২০-২০৩০) ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নীতি ২০২০-এর আগামী দশ-বার্ষিক ( ২০২১-২০৩০) কর্মপরিকল্পনা এবং এ সংক্রান্ত নীতিসমূহের বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একটি কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হয়।
চূড়ান্ত পর্যায়ে সিআইপি৩, জাতীয় নীতিগত কাঠামো, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আঞ্চলিক, স্থানীয় এবং সেক্টরাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং প্রোগ্রামগুলোর অগ্রগতি নির্দেশনা এবং তা পর্যবেক্ষণ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে একইসাথে ‘জাতীয় খাদ্য-ভিত্তিক খাদ্যগ্রহণ নির্দেশিকা ২০২০’ – এর মোড়ক উন্মোচনের সাথে নিউট্রিশন চ্যালেঞ্জ ব্যাজ ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মটি উদ্বোধন করা হয় । ‘জাতীয় খাদ্যভিত্তিক খাদ্যগ্রহণ নির্দেশিকা ২০২০’ স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, খাদ্য-সম্পর্কিত রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং পুষ্টি সচেতনতা উন্নত করতে খাদ্য ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করে। জাতীয় খাদ্যগ্রহণ নির্দেশিকা ২০১৫ সংশোধন করার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের সুপারিশমালার ভিত্তিতে পরবর্তীতে এফএও এবং এফপিএমইউ যৌথভাবে খাদ্যভিত্তিক নির্দেশিকাগুলো তৈরি করে ।

নিউট্রিশন চ্যালেঞ্জ ব্যাজ ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মটি এফপিএমইউ-এর ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়েছে। স্কুল-বয়সি শিশু-কিশোর এবং যুবকদের জন্য, বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় তৈরি শিক্ষণীয় এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত একটি পাঁচ-মডিউলভিত্তিক পুষ্টিবিষয়ক নির্দেশনামূলক সার্টিফিকেট কোর্স। অন্যরাও কোর্সটি অনুসরণ করে উপকৃত হতে পারে এবং পুষ্টি সম্পর্কে তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারে। https://ncbelearning.fpmu.gov.bd/ লিংকটির মাধ্যমে সরাসরি অনলাইনে এই ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মটি পাওয়া যাবে।